বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা হবেন মুক্তমনা: যবিপ্রবি উপাচার্য

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা এবং অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকতার মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হতে হয় মুক্তমনা। এই মুক্তমন নিয়ে তারা দেশের জন্য কিছু মুক্তমনা মানুষ তৈরি করেন।

আজ রোববার যবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনের গ্যালারিতে অনলাইন ক্লাসের জন্য ‘অনলাইন লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, শিক্ষকেরা হলেন মানুষ গড়ার কারিগর। এই কারিগররা যত উন্নত হবে, তাঁরা তত ভালো প্রডাক্ট বানাতে পারবে। অর্থাৎ দেশের জন্য তাঁরা দক্ষ ও মানসম্মত নাগরিক তৈরি করতে পারবে।

যবিপ্রবির শিক্ষকদের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন আমরা এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করি, যেখানে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ-চিন্তা-চেতনার লালন করা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণের জন্য দিনরাত যে নিরলস পরিশ্রম করছেন, যেন তার প্রতিফলন হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমন গ্রাজুয়েট তৈরি করতে হবে- যারা চাকরি চাইবে না, মানুষকে চাকরি দেবে।

তিনি বলেন, অনলাইনে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় সেমিস্টারের ক্লাসও শুরু করা হবে। এজন্য প্রথমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যেন তাঁরা যথাযথভাবে এ পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বুঝাতে পারে। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যেন একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বাদ না পড়ে এ জন্য অর্ন্তভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হবে। সব শিক্ষার্থী যেন একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে থাকে, সে জন্য করোনা পরিস্থিতির পর শ্রেণিকক্ষের বাইরে অনলাইনেও ক্লাস কার্যক্রম চলবে।

যবিপ্রবির কম্পিউটার প্রকৌশল ও প্রযুক্তি (সিএসই) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোঃ গালিবের পরিচালনায় প্রশিক্ষণ কর্মশালায় কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ড. মোঃ মেহেদী হাসান, সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আসিফ নাসিরী ও ড. মোঃ আলম হোসেন বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া যবিপ্রবির ২৬টি বিভাগের অর্ধশতাধিকের বেশি শিক্ষক এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেন। এডুকেশন টেকনোলজি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (ইটিআরসি) দুজন বিশেষজ্ঞ অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেন।