বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে প্রস্তুত উপাচার্যরা, অপেক্ষা সরকারি নির্দেশনার

প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা নিয়ে বেশ জোরেশোরে কথা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী থেকে শিক্ষা উপমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ বিষয়টি এখন সরকারের উচ্চমহলের মুখে মুখে। এদিকে, উপাচার্য বলছেন, তারাও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলেই উপাচার্যরা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিতে পারবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলা নির্ভর করছে সরকারের উপর। আমরা সরকারি নির্দেশনা পেলে সশরীরে পাঠদান শুরু করবো। এ বিষয়ে আমাদের সক্ষমতা রয়েছে। আবাসিক হল ও ক্যাম্পাস খোলারও সব প্রস্তুতি আমাদের আছে।

চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, সরকার নির্দেশ পেলেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেব। এ বিষয়ে আমাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনদের সাথে একটা মিটিং আয়োজন করবো। সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা আসলে কীভাবে খুব দ্রুত স্থগিত থাকা পরীক্ষাগুলো শেষ করা যায়, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ দেওয়া আছে, ভ্যাকসিন কার্যক্রম শেষ হলেই বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেবে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, আমরা প্রস্তুত আছি। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত পেলে আমরা অবশ্যই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা শুরু করে দেবো। এছাড়া অনলাইন পরীক্ষার মাধ্যমে কীভাবে জট কমানো যায় সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া সরকারি সিদ্ধান্ত। সরকারের নির্দেশনা পেলে আমরা যেকোন সময়ই বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে হল সংস্কারের কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সবকিছুই প্রস্তুতি রয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত আসলে আমরা যেকোন সময় হলও খুলে দিতে পারবো।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল ইসলাম বলেন, করোনা পরিস্থিতির উপর বিশ্ববিদ্যালয় খোলা নির্ভর করছে। আমাদের এসব অঞ্চলে সংক্রমণের মাত্রাটা কিছুটা বেশি। শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রম চলছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা কতটা সম্ভব হবে তা কেবল পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে। এছাড়া আমরা প্রস্তুত আছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যেকোন নির্দেশনা পেলে আমরা সে অনুযায়ী কাজ করবো।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, এখন দেশের যে অবস্থা আজও অনেকে মারা গেছে। আল্লাহ না করুক কাল এটা বাড়তেও পারে। এখন সরকার যদি মনে করেন সেপ্টেম্বরে সশরীরে খুলে দেবে তাহলে আমাদের কোন সমস্যা নেই। আমাদের অনলাইনে অথবা সশরীরে দুইভাবেই ক্লাস-পরীক্ষা জন্য প্রস্তুতি নেওয়া আছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কিউ এম মাহবুব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হবে কি হবে না এটি সরকারের সিদ্ধান্ত। আমরা এই মুহুর্তে ভাবছি কীভাবে দ্রুতসময়ে অনলাইন পরীক্ষা শুরু করতে পারি। শিক্ষার্থীরা প্রায় এক বছর পিছিয়ে পড়েছে আমরা তাই ক্ষতি কমিয়ে আনতে দ্রুত পরীক্ষা শুরু করতে চাই। আর এর মধ্যে যদি সরকার বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার ঘোষণা দেয় তাহলেও আমাদের সমস্য নেই, আমরা সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবো।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পর আগামী ৩১ আগস্ট এ ছুটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, গতকাল ‍বুধবার (১১ আগস্ট) থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া শর্তসাপেক্ষে সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের অফিস, দোকানপাট ও গণপরিবহন খুলে দেয়া হয়েছে। এ জন্য মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জারি করা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। গণপরিবহন, বিভিন্ন দপ্তর, শপিংমল, বাজারসহ যে কোনো প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি মানায় অবহেলা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।