বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন শুধু বিবিএ-এমবিএ পড়ানো হচ্ছে, প্রশ্ন শিক্ষামন্ত্রীর

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন দেশের প্রতিটি জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় হবে এবং সে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকখানি আমরা দেখতে পায় শুধু বিবিএ-এমবিএ পড়ানো হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা এবং ইতিহাস পড়ানো হবে না তা হতে পারে না। বিবিএ-এমবিএর বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, যদি বিশ্ববিদ্যালয় হতে হয় সেখানে ভাষা ও ইতিহাস এই বিষয়গুলোতো উচ্চশিক্ষা অর্জনের মৌলিক ভিত্তি হওয়ার কথা ছিল। কাজেই সেখানে এই বিষয়গুলো অবশ্যই থাকতে হবে। আর যদি না থাকে তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানকে তো আর যাই বলা হোক খুব সম্ভবত বিশ্ববিদ্যালয় বলা যাবে না। পলিটেকনিক বলা যেতে পারে।

রবিবার রাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ভার্চুয়াল এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর বেনু কুমার দে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিরউল হাসান ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় এ আলোচনা সভায় মূখ্য আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ প্রফেসর ড. মুনতাসীর মামুন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর এস. এম. মনিরুল হাসান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে নিজের প্রাণের চেয়ে অধিক ভালোবাসতেন। তাই তিনি শৈশবকাল থেকেই বাঙালি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্ত করার স্বপ্ন দেখতেন। এ মহান নেতা বাঙালি জাতির মুক্তির সুুপ্ত আকাঙ্খাকে জাগ্রত করার মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে বাঙালিদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। এ বিশ্ব নেতার সম্মোহনী নেতৃত্বে বাঙালি জাতি দীর্ঘ নয়মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে হায়েনাদের পরাজিত করে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠা করেন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতার দেখানো পথে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এ বিশ্ব নেতার দর্শন ও চিন্তা নিয়ে যত বেশি চর্চা ও গবেষণা হবে নতুন প্রজন্ম তত বেশি সমৃদ্ধ হবে। শিক্ষামন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অধিকতর গবেষণার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরার জন্য গবেষকবৃন্দের প্রতি আহবান জানান।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, ৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে হায়েনার দল বাংলাদেশকে পিছিয়ে দেয়ার ঘৃণ্য অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছিল। কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু তনয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত।

অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক প্রফেসর ড. মুনতাসীর মামুন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন একটি অসাম্প্রদায়িক, শোষণমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বঙ্গবন্ধুর জীবনবোধ, রাজনৈতিক দর্শন সর্বোপরি তাঁর রাষ্ট্রদর্শন নিয়ে গবেষণাধর্মী ও তথ্যবহুল আলোচনা উপস্থাপন করেন। জাতির পিতার এ স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অধিকতর গবেষণা ও চর্চা প্রয়োজন।