বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম পিছিয়ে যাচ্ছে দুমাস

দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি খারাপ অবস্থায় রয়েছে। চলছে লকডাউন। ফলে প্রায় ১৪ মাস ধরে টানা বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ অবস্থায় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম অন্তত দুমাস পিছিয়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ বিষয়টি নিয়ে গত ৫ মে বৈঠকও করেছেন।

সুত্র জানায়, আগামী ঈদের পর ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে। কয়েক বছর ধরে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করে আসছে এই পরিষদ। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২১ মে শুরু হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে ইতোমধ্যে এ পরীক্ষার তারিখ পুননির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ঈদের পর বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তারিখও ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি (চুয়েট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল আলম বলেন, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পরীক্ষা পেছানোর ব্যাপারে সভায় পক্ষে-বিপক্ষে মত এসেছে। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা বলেছেন সবাই। সে অনুযায়ী ঈদের পর এ নিয়ে বৈঠকে পরীক্ষার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘চ’ ইউনিটের মাধ্যমে আগামী ৩১ জুলাই ভর্তিযুদ্ধ শুরু হবে। সে হিসাবে ভর্তি পরীক্ষা দুমাসের বেশি পিছিয়ে গেছে। কেননা শিক্ষার্থীদের পছন্দের বিবেচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সবার আগে নেওয়া হয়। এবারও সে নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল। এবার দেশের ৪৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পুরোনো পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট এবং ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আলাদাভাবে পরীক্ষা নেবে।

আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হয়। সশস্ত্র বাহিনী পরিচালিত তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা ভর্তি পরীক্ষা হয়। এছাড়া এবার তিন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, সাতটি কৃষি এবং ২০ সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় তিন গুচ্ছে আলাদাভাবে পরীক্ষা নেবে। ইতোমধ্যে গত ২ এপ্রিল মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। ফলও ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়নি।

২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ইতোমধ্যে পেছানো হয়েছে। এখনো অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা পেছানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে পরীক্ষা পুনর্বিন্যাস হবে।ছাত্র-ছাত্রীদের কথা বিবেচনা করে তাদের পছন্দের শীর্ষে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার তারিখ আগে রাখা হয়।

তিনি এর কারণ হিসেবে বলেন, অনেকে অপেক্ষাকৃত কম পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যায়। পরে আবার বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেলে ভর্তি হয়ে যাবে। এতে আগের আসন শূন্য থাকে। আবার অনেকে ভর্তি হতে পারে না। এই অপচয় রোধ করতে চাই আমার। পাশাপাশি কারো ভর্তির টাকা যেন নষ্ট না হয়। কারণ ভর্তি বাতিল করলে টাকা ফেরত পায় না কেউ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চশিক্ষায় বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৩৯ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে মূল ভর্তিযুদ্ধ শুরু হয়। এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর ১৪ জুন থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সময় নির্ধারণ করা ছিল। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২২ জুন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য ১ জুন এবং বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা ১০ জুন থেকে নেওয়ার কথা ছিল।

আর সাতটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ জুন পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হবে। ৩১ জুলাই এ ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া তিন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রুয়েট, চুয়েট ও কুয়েত আবেদন আজ (৮ মে) শেষ হচ্ছে। এ গুচ্ছের পরীক্ষা হওয়ার কথা ১২ জুন। বাকি ২০ বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছের পরীক্ষা ১৯ জুলাই থেকে হওয়ার কথা আছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ৮ জুন থেকে অনলাইনে আবেদন নেবে।