The Rising Campus
News Media
শুক্রবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে মূল লড়াই ৫৫ হাজার আসনে

২০২১ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৩ লাখ ৬ হাজার ৭১৮ শিক্ষার্থী। এরমধ্যে ফলাফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন। অন্যদিকে, এবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি মেডিকেল-ডেন্টাল কলেজগুলোতে আসন রয়েছে ৫৫ হাজারের মতো।

ফলে উত্তীর্ণ হওয়া উচ্চমাধ্যমিকের এসব শিক্ষার্থী তো দূরের কথা ফলাফলের সর্বোচ্চ সূচক পেয়েও অনেকেই ভর্তি হতে পারবেন না পছন্দের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এ কারণে এবারও শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভর্তিতে তীব্র প্রতিযোগিতা করতে হবে।

তবে উচ্চশিক্ষায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ১৩ লাখেরও বেশি আসন রয়েছে। আর এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ উচ্চশিক্ষায় আসে না। এর ফলে উচ্চশিক্ষায় আসনের কোনো সংকট নেই। বরং কয়েক লাখ আসন ফাঁকা থাকবে। তবে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিযুদ্ধে নামতে হবে শিক্ষার্থীদের।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) সূত্র জানা যায়, দেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫০। খুলনা শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও কিশোরগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এছাড়া চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া ১০৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকা ১০০টিতে আসন প্রায় দুই লাখ পাঁচ হাজার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে ৮ লাখ ৭২ হাজার ৮১৫, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মাদ্রাসায় ৬০ হাজার, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে ৭৭ হাজার ৭৫৬, দুটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৪০, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজে ২৩ হাজার ৩৩০, ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ৭২০, ৬টি টেক্সটাইল কলেজে ৭২০, বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টালে সাড়ে ৭ হাজার, সরকারি-বেসরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি প্রতিষ্ঠানে ৫ হাজার ৬০০, ১৪টি মেরিন অ্যান্ড এরোনটিক্যাল কলেজে ৬৫৪, ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ২৯০টি আসন রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে মানসম্মত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও হাতে গোনা। এছাড়া এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছেন। জিপিএ-৪ থেকে ৫-এর মধ্যে থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যাও প্রায় ছয় লাখ। তাদের অনেকেই জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফলে পছন্দের আসন নিয়ে তুমুল যুদ্ধে নামতে হবে শিক্ষার্থীদের।

অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরা অপেক্ষা করছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য। সেখানে ভর্তির সুযোগ না পেলে অন্য অধিভুক্ত কলেজ কিংবা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চেষ্টা করবেন।

এইচএসসি পাশ করা একাধিক শিক্ষার্থী জানান, সব শিক্ষার্থীই পছন্দের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে চায়। সে হিসাবে প্রথম পছন্দ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের বুয়েট, মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, এবার উচ্চশিক্ষায় আসনের ক্ষেত্রে কোনো সংকট হবে না। তবে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংকটে পড়তে হবে। আমাদের উচ্চশিক্ষার ৭০ শতাংশ আসনই অধিভুক্ত কলেজে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ না পেয়ে সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়।

0
You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. হোম
  2. ক্যাম্পাস
  3. বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে মূল লড়াই ৫৫ হাজার আসনে

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে মূল লড়াই ৫৫ হাজার আসনে

২০২১ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৩ লাখ ৬ হাজার ৭১৮ শিক্ষার্থী। এরমধ্যে ফলাফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন। অন্যদিকে, এবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি মেডিকেল-ডেন্টাল কলেজগুলোতে আসন রয়েছে ৫৫ হাজারের মতো।

ফলে উত্তীর্ণ হওয়া উচ্চমাধ্যমিকের এসব শিক্ষার্থী তো দূরের কথা ফলাফলের সর্বোচ্চ সূচক পেয়েও অনেকেই ভর্তি হতে পারবেন না পছন্দের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এ কারণে এবারও শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভর্তিতে তীব্র প্রতিযোগিতা করতে হবে।

তবে উচ্চশিক্ষায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ১৩ লাখেরও বেশি আসন রয়েছে। আর এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ উচ্চশিক্ষায় আসে না। এর ফলে উচ্চশিক্ষায় আসনের কোনো সংকট নেই। বরং কয়েক লাখ আসন ফাঁকা থাকবে। তবে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিযুদ্ধে নামতে হবে শিক্ষার্থীদের।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) সূত্র জানা যায়, দেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫০। খুলনা শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও কিশোরগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এছাড়া চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া ১০৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকা ১০০টিতে আসন প্রায় দুই লাখ পাঁচ হাজার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে ৮ লাখ ৭২ হাজার ৮১৫, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মাদ্রাসায় ৬০ হাজার, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে ৭৭ হাজার ৭৫৬, দুটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৪০, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজে ২৩ হাজার ৩৩০, ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ৭২০, ৬টি টেক্সটাইল কলেজে ৭২০, বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টালে সাড়ে ৭ হাজার, সরকারি-বেসরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি প্রতিষ্ঠানে ৫ হাজার ৬০০, ১৪টি মেরিন অ্যান্ড এরোনটিক্যাল কলেজে ৬৫৪, ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ২৯০টি আসন রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে মানসম্মত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও হাতে গোনা। এছাড়া এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছেন। জিপিএ-৪ থেকে ৫-এর মধ্যে থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যাও প্রায় ছয় লাখ। তাদের অনেকেই জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফলে পছন্দের আসন নিয়ে তুমুল যুদ্ধে নামতে হবে শিক্ষার্থীদের।

অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরা অপেক্ষা করছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য। সেখানে ভর্তির সুযোগ না পেলে অন্য অধিভুক্ত কলেজ কিংবা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চেষ্টা করবেন।

এইচএসসি পাশ করা একাধিক শিক্ষার্থী জানান, সব শিক্ষার্থীই পছন্দের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে চায়। সে হিসাবে প্রথম পছন্দ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের বুয়েট, মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, এবার উচ্চশিক্ষায় আসনের ক্ষেত্রে কোনো সংকট হবে না। তবে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংকটে পড়তে হবে। আমাদের উচ্চশিক্ষার ৭০ শতাংশ আসনই অধিভুক্ত কলেজে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ না পেয়ে সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়।

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন