বিশেষ ব্যবস্থায় নতুন বই পাবে সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থী

করোনার কারণে নতুন বছরে ঘটা করে হচ্ছে না বই উৎসব। তবে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছাতে থেমে নেই উদ্যোগ। সেই ধারবাহিকতায় আগামী ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার সব প্রস্তুতি শেষ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে করোনার কারণে এবার বিশেষ ব্যবস্থায় নতুন বই পাবে শিক্ষার্থীরা। সেক্ষেত্রে প্যাকেটজাত বই পৌঁছে যাবে শিক্ষার্থীদের হাতে।

যদিও নির্ধারিত সময়ের দুই মাস পর বই ছাপা শুরু করা হয়েছিল তবে এখন এর কাজ প্রায় শেষ করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এনসিটিবি ও মুদ্রণ ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রাথমিকের ৯৫ শতাংশ এবং মাধ্যমিকের ৮৫ শতাংশ বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে।

এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানান, আগামী ১ জানুয়ারি সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েকজন শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিয়ে বই বিতরণের আনুষ্ঠানিকতা উদ্বোধন করবেন। পরের দিন সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বই বিতরণ করা হবে। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার সারাদেশে বই উৎসব হবে না। তবে বিকল্প পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হবে

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, করোনার কারণে এবার বিকল্প পদ্ধতিতে বই বিতরণ করবে সরকার। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধির কথা চিন্তা করে এবার প্যাকেটজাত করা থাকবে বই। ভিন্ন ভিন্ন দিনে ক্লাস ও রোল অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা বই সংগ্রহ করবে।

প্রতি বছর গণভবনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন তিনি। আগামী ৩১ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বই তুলে দিয়ে উদ্বোধন করা হবে। পরে সারাদেশে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বছরের বই তুলে দেওয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতা আসার পর থেকে গত বছর পর্যন্ত প্রাক-প্রাথমিক, মাধ্যমিক, ইবতেদায়ি, দাখিল ও ভোকেশনাল স্তরে সর্বমোট ২৬০ কোটি ৮৫ লাখ ৯১ হাজার বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের আলাদাভাবে আরও প্রায় আড়াই লাখ বই প্রদান করা হয়।

২০১৯ সালে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মোট ৪ কোটি ৪৩ লাখ ৩ হাজার শিক্ষার্থীর হাতে প্রায় ৩৫ কোটি বই তুলে দেওয়া হয়। আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য কাছাকাছি সংখ্যা ধরে বই ছাপাচ্ছে সরকার।

১ জানুয়ারির আগেই প্রাথমিক পর্যায়ের ৯৫ শতাংশ এবং মাধ্যমিকের ৮৫ শতাংশ বই উপজেলায় পৌঁছে যাবে জানিয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, কিছু বই বাকি থাকবে, সেগুলোর কারণে বই উৎসবের কোনো সমস্যা হবে না। কারণ বাকি বইগুলোর মধ্যে ৫ শতাংশ বাফার স্টকের বই। এগুলো পরে গেলেও সমস্যা হবে না।’

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বই পৌঁছে যাবে বলে জানান এনসিটিবি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান নিজ দায়িত্বে আমাদের সহযোগিতা করেছে। সময়ের আগেই বই ছাপিয়ে উপজেলায় পাঠিয়েছে। করোনাসহ নানা জটিলতায় একটু দেরি করে কাজ শুরু হলেও ডিসেম্বরের মধ্যে সিংহভাগ বই বিভিন্ন উপজেলায় পৌঁছানো হবে।