বিনা খরচে যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে বিনা খরচে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীরা। ‘ফুলব্রাইট ফরেন স্টুডেন্ট প্রোগ্রাম’র জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন চেয়েছে মার্কিন দূতাবাসের আমেরিকান সেন্টার। এ শিক্ষা কার্যক্রমের অধীনে স্নাতক ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীরা সম্পূর্ণ বিনা খরচে যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করতে পারবেন।

মার্কিন দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কনিষ্ঠ অনুষদ সদস্য, সরকারি ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন ও এনজিওতে কর্মরত কনিষ্ঠ থেকে মধ্য পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। শিক্ষার সব শাখার আগ্রহীরা আবেদন করতে পারবেন। তবে বিশেষভাবে শিক্ষার কয়েকটি শাখার ওপর তারা জোর দিতে চায়।

যেসব বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনের জন্য অনুদান
১. শিক্ষা: উচ্চশিক্ষা প্রশাসন/শিক্ষানীতি, পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা/পাঠ্যক্রম ও নির্দেশনাসংক্রান্ত সব বিষয়
২. স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞান: চিকিৎসাবিজ্ঞান/জনস্বাস্থ্য
৩. জীববিজ্ঞান ও ভৌতবিজ্ঞান: জীববিদ্যা/রসায়ন/পদার্থবিজ্ঞান/ফার্মাসি
৪. সমাজবিজ্ঞান ও মানবিক শাখা: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক/রাষ্ট্রবিজ্ঞান/সমাজবিদ্যা/ইতিহাস/সাহিত্য/ভাষা ও সংস্কৃতি
৫. ব্যবসা: মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর এমবিএ/আন্তর্জাতিক ব্যবসা/পরিচালনা ব্যবস্থাপনা/স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা
৬. অর্থনীতি: আন্তর্জাতিক অর্থনীতি/বাণিজ্য ও সম্পদসংস্থান/অর্থনৈতিক নীতি/পরিবেশগত অর্থনীতি/প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক অর্থনীতি
৭. নগর-পরিকল্পনা: সাধারণ পরিকল্পনা/ভূমির ব্যবহার ও পরিবেশগত পরিকল্পনা/পরিবহনব্যবস্থা/নগর–পরিকল্পনা/কমিউনিটি উন্নয়ন
৮. পরিবেশগত অধ্যয়ন (পরিবেশ বিদ্যা) ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
৯. জনপ্রশাসন/জননীতি (পাবলিক পলিসি)
১০. মনোবিজ্ঞান: ক্লিনিক্যাল/কাউন্সেলিং
১১. নিরাপত্তা অধ্যয়ন (নিরাপত্তাবিষয়ক বিদ্যা)

কারা পাবেন বৃত্তি: এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে হলে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে-
• বাংলাদেশের স্বীকৃত সরকারি কিংবা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বপূর্ণ ফলসহ ন্যূনতম ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি।
• আগে কোনো আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নেননি কিংবা বর্তমানে আমেরিকায় কোনো শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তি নন।
• বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশ থেকে পূর্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেননি। যারা বাংলাদেশ থেকে স্নাতকোত্তর হয়েছেন, তারা বিবেচিত হবেন।
• যে বিষয়ে পড়তে যেতে ইচ্ছুক, সে বিষয়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক/সংশ্লিষ্ট কর্মক্ষেত্রে ন্যূনতম দুই বছরের পূর্ণকালীন কাজের অভিজ্ঞতা।
• ইংরেজিতে সাবলীল ও পারদর্শী হতে হবে। ইন্টারনেটভিত্তিক (আইবিটি) টোয়েফলে ন্যূনতম ৯০ কিংবা আইইএলটিএসে ন্যূনতম ৭ স্কোর।
• সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে।
• আবেদনের সময় বাংলাদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে।
• ডিগ্রি শেষ করার আগেই বাংলাদেশে ফিরে এলে ফিরতি বিমানের টিকিটের মূল্য ফেরত দিতে রাজি থাকতে হবে।

আবেদনের সঙ্গে যা জরুরি
> অনলাইনে পূরণের আবেদন ফরম পাওয়া যাবে ঠিকানায়।
> আবেদনকারী উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা-পরবর্তী সময়ে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর) একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট (শিক্ষা প্রতিলিপি) ও সনদ সংগ্রহ করবেন।
> তিনজন সুপারিশকারী পৃথকভাবে অনলাইন আবেদন পোর্টালে সরাসরি তিনটি সুপারিশপত্র আপলোড/উপস্থাপন করবেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা অবশ্যই অনলাইন আবেদন সাইটে ‘Recommender Registration’ বাটনের মাধ্যমে নিজ নিজ সুপারিশকারীদের নিবন্ধন করবেন।
> একাডেমিক রেকর্ডবিষয়ক তথ্যাদির পূরণকৃত ফরম (অনলাইন আবেদন সাইটে পাওয়া যাবে)
> টোয়েফল/আইইএলটিএসের বৈধ স্কোর (মেয়াদোত্তীর্ণ নয়)।

আর যা লাগবে
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা জিআরই কিংবা জিম্যাট স্কোর থাকতে হবে। কোনো আবেদনকারী জিআরই কিংবা জিম্যাট পরীক্ষা দিয়ে থাকলে প্রাপ্ত নম্বরসংক্রান্ত তথ্য অনলাইন আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় এ ধরনের স্কোর না থাকলে শুধু প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের জন্য পরীক্ষার আয়োজন করা হবে।

সুযোগ-সুবিধা
১. জে-১ ভিসার জন্য সহায়তা;
২. ঢাকায় যাত্রাপূর্ব পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠান;
৩. যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া-আসা উভয় পথের বিমানভাড়া;
৪. টিউশন (শিক্ষাদান) ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট খরচ;
৫. থাকা, খাওয়া ও আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটানোর জন্য মাসিক বৃত্তি;
৬. বইপত্র কেনার জন্য ভাতা;
৭. স্বাস্থ্য ও দুর্ঘটনা বিমা,
৮. ভ্রমণ ও ব্যাগেজ (অতিরিক্ত লাগেজের জন্য) ভাতা।

আবেদনের শেষ সময়
অনলাইন আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৫ মে ২০২১। আগে যারা আবেদন করে কৃতকার্য হননি, এমন প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।

ফলাফল
প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কঠোর বাছাইপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রার্থীদের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি ২০২১ সালের জুলাই মাসের শেষ নাগাদ জানানো হবে। যুক্তরাষ্ট্রে এ কার্যক্রম শুরু হবে ২০২২ সালের আগস্ট মাসে।

মনে রাখবেন
নির্বাচিত প্রার্থীদের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর অবশ্যই বাংলাদেশে ফিরে আসতে হবে। দেশে এসে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স সেকশনে দেশে ফিরে আসার বিষয়টি অবগত করতে হবে। এরপর একটি ব্রিফিং সভায় যোগ দিতে হবে।

প্রয়োজনে যোগাযোগ
অনলাইনে আবেদন করতে কোনো অসুবিধায় পড়লে sultanar1@state.gov ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারবেন। ফুলব্রাইট কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে লিঙ্কে ঢুকতে পারেন। আবেদনের ফরমগুলো এখানে পাওয়া যাবে।