বিদেশি শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ায় আবেদন বন্ধ

বিদেশি শ্রমিকদের নেওয়ার আবেদন আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটির মানবসম্পদবিষয়ক মন্ত্রণালয় গতকাল শুক্রবার জানিয়েছে, এই আবেদনের সুযোগ ১৫ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

মালয়েশিয়াভিত্তিক বার্তা সংস্থা বারনামার বরাত দিয়ে গতকাল এই খবর প্রকাশ করেছে মালয় মেইলের অনলাইন সংস্করণ। এতে বলা হয়, মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থান (সংশোধন) আইন-২০২২ কার্যকর হবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে।

নতুন এই আইন গত মার্চে পার্লামেন্টে পাস হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৯৮ দিন করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্তঃসত্ত্বা শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং পিতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়টিও যুক্ত করা হয়েছে এই আইনে।

এই আইন বাস্তবায়নের পর বিদেশি শ্রমিকদের আবেদন ও তাঁদের কাজ করার সুযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া পর্যালোচনার সুযোগ পাবে মানবসম্পদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর কারণে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিদেশি শ্রমিকদের জন্য আবেদনের নতুন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে শিগগিরই জানানো হবে। তবে এর আগে বা আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত যারা আবেদন করবেন, তাঁদের আবেদন ৩১ আগস্ট বা এর আগেই নিষ্পত্তি করা হবে।

এর আগে গত বুধবার বিদেশি শ্রমিক পাঠানোয় বিভিন্ন এজেন্সিকে কোটা পাইয়ে দিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করে মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন। এর মধ্যে বেস্টিনেট নামের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সিইও আমিন আবদুল নুরও রয়েছেন।

ফ্রি মালয়েশিয়া টু ডে ডটকমের খবরে বলা হয়েছে, গত মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে বেস্টিনেট নামের এই প্রতিষ্ঠান প্রায় সাড়ে তিন লাখ কর্মীর আবেদন নিষ্পত্তির বিষয়ে কাজ করেছে। এই প্রতিষ্ঠান প্রতিটি আবেদন নিষ্পত্তি করতে ৮০০ থেকে দেড় হাজার রিঙ্গিত ঘুষ নিয়ে থাকে। মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানিতে বাংলাদেশ থেকে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে আমিন আবদুল নুরের প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেটের ভূমিকা রয়েছে।

ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানও অভিযোগ করেছিল, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানিতে দেশের ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে বাজার নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করে দিয়েছে বেস্টিনেট।

এ অভিযোগ ওঠার পর মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন বেশ কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে। ফ্রি মালয়েশিয়া টু ডের খবরে আরও বলা হয়, গত ৬ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশন বেস্টিনেট নামের ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে তল্লাশি চালায়। এরপর থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে মালয়েশিয়ার প্রশাসন।