বারবার নিয়ম ভঙ্গ, তবুও বহাল তবিয়তে অর্ধশত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে গেছে মাত্র ৩০টি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অসংখ্য নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয়। সে হিসেবে এতদিনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু স্থায়ী ক্যাম্পাসে না গেলেও এসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা দেখিয়ে চলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম প্রতিপালনে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্তত তিন বছর আগে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি বাতিল করে দেয়ার কথা। কিন্তু অজানা কারণে তা হয়নি। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নতুন বিভাগ ও অনুষদ খোলাসহ সমাবর্তন আয়োজন করতেও কোনও বেগ পেতে হচ্ছে না। অথচ ইউজিসি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে চলেছে দীর্ঘদিন।

জানা গেছে, ১০৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে চালু আছে ৯৬টি। ১৯৯২ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ শুরু হওয়ার পর ২০১০ সালের আগের আইনে মোট ৫২টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৪১টির প্রতিষ্ঠার সাময়িক সনদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। তারা স্থায়ী ক্যাম্পাসেও কার্যক্রম পরিচালনা করছে না।

এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে কয়েকদফা আলটিমেটাম দেয়া হয়। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে সময় বেঁধে দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তখন বলা হয়েছিল- এ নির্দেশ পালন করতে না পারলে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করে দেয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা আছেন। তাদের অনেকের অনৈতিক চাপের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিব্রত হন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরু না করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ থাকার কথা ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। এর আগে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ ও অনুষদের অনুমোদন এবং সমাবর্তন আয়োজনের অনুমতিও বাতিল করা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ইউজিসি পরিচালক (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) ড. মো. ফখরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছেন, কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরু করেছে। যেগুলো যেতে পারেনি তাদের ব্যাপারে কমিটি কাজ করছে। নতুন করে কার্যক্রম মূল্যায়নে আরেকটি কমিটি হবে।

তিনি বলেন, সরকারের সর্বশেষ বেঁধে দেয়া সময়ের পর শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ থাকার কথা ছিল। এ বিষয়ে কমিটি কাজ করছে। আইন অনুযায়ী সাত বছরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে হয়। কিন্তু আবেদনের ভিত্তিতে সাময়িক সনদের মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়ানোর নির্দেশনা আইনে আছে। সাতটি সনদের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছে। এখন পরবর্তী সিদ্ধান্তের সুপারিশ পাঠানো হবে মন্ত্রণালয়ে।

জানা গেছে, ৫২টির মধ্যে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে গেছে। ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয় আলটিমেটাম লঙ্ঘন করছে। অন্যদিকে ২০১২-১৩ সালে যে ২৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি দেয়া হয়, এর মধ্যে ১৬টির বয়স পার হয়েছে সাত বছর।

এ প্রসঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত হয়নি। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে গেছে, কিছু আংশিক। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে তিনি জানান।