বাজেটে বরাদ্দ নেই, হতাশ নন-এমপিও শিক্ষকরা

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য কোন বরাদ্দ নেই। অর্থমন্ত্রীও বাজেট বক্তৃতায় এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেননি। এ নিয়ে নন-এমপিও শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

এর আগে প্রায় ১০ বছরের বিরতির পর চলতি অর্থবছরের বাজেটে নতুন এমপিওভুক্তির জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু এবারের বাজেটে সেটি আর করা হয়নি। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, নিয়মিত প্রক্রিয়ায় প্রতি বছরই নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে।

সংসদে বাজেট প্রস্তাবের পর গত বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। এমপিওভুক্তির জন্য মানদণ্ড ঠিক করা আছে। এর ভিত্তিতে প্রতিবছরই এমপিওভুক্ত করা হবে।

তবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল তাঁর বাজেট বক্তৃতায় এমপিওভুক্তির ব্যাপারটি উল্লেখ করলেও এড়িয়ে গেছেন নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বাজেট বরাদ্দের বিষয়টি। তিনি বলেছেন, সরকার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ, বেসরকারি স্কুল সরকারীকরণসহ নানা কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু আগামী অর্থবছরেও এমপিওভুক্তির জন্য বরাদ্দ রাখার ব্যাপারটি উল্লেখ করেননি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার বাজেটে এই এমপিওভুক্তিই ছিল মানুষের সবচেয়ে আগ্রহের বিষয়। তবে চলতি অর্থবছরের চেয়ে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চার হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে এখান থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন এমপিওভুক্তির জন্য বরাদ্দ রাখতে পারে। ফলে তাদের ওপরই নির্ভর করছে আগামী অর্থবছরে নতুন এমপিওভুক্তি।

এদিকে শিগগির আগামী অর্থবছরে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা না আসলে আন্দোলন নামার কথা জানান বাংলাদেশ নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার। তিনি বলেন, ‘নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ব্যাপারে বাজেটে আমরা সুস্পষ্ট ঘোষণা চাই। করোনার মধ্যে আমাদের শিক্ষকরা চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। আরো কয়েক দিন আমরা দেখব। এর মধ্যে এমপিওভুক্তির ঘোষণা না এলে আবারও আন্দোলনের মাঠে নামা ছাড়া আমাদের হাতে আর কোনো উপায় থাকবে না।’

জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পর চলতি অর্থবছরে নতুন এমপিওভুক্তির জন্য বাজেট বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু একাধিক শর্ত পেরিয়ে দুই হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা এলেও দুই হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়। তবে এখনো সাত হাজারের অধিক নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য অপেক্ষা করছে। এ ছাড়া অনার্স-মাস্টার্স কলেজের শিক্ষকরাও এমপিওভুক্তির জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোও এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের আগামী অর্থবছরেও প্রত্যাশা ছিল, আগামী অর্থবছরে এমপিওভুক্তির জন্য বরাদ্দ থাকবে। কিন্তু সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন বাজেট বক্তৃতায় পাওয়া যায়নি।

এদিকে চলতি অর্থবছরে দুই হাজার ৬১৫টি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির যোগ্য প্রতিষ্ঠান খুঁজে না পাওয়ায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ফেরত গেছে। ফলে আগামী অর্থবছরে এই টাকার সঙ্গে আরো কিছু বাড়িয়ে নতুন এমপিওভুক্তি চান শিক্ষকরা।