বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদে প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির জন্য করণীয়

বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক (জেনারেল) পদে এবার নেওয়া হবে ২২৫ জন। সাধারণত তিন ধাপে প্রার্থী বাছাই করা হয়। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা। প্রথম ধাপ প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বহুনির্বাচনি প্রশ্নে নেওয়া হয়। ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়ে থাকে। এ জন্য সাধারণত ১০০টি এমসিকিউ থাকে। এর মধ্যে বাংলা ২০, ইংরেজি ২০, গণিত ৩০, সাধারণ জ্ঞান ২০ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে ১০ নম্বরের প্রশ্ন থাকে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ভালো করতে সঠিকভাবে বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে হবে এবং কম সময়ে উত্তর করা শেখা জরুরি।

বাংলা
বাংলা বিষয়ে প্রস্তুতির জন্য নবম-দশম শ্রেণির বোর্ডের ব্যাকরণ বই পড়তে হবে। এ বই থেকে ব্যাকরণগুলো পড়লে পরীক্ষায় ভালো করার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ব্যাকরণের যে বিষয়গুলো বেশি পড়তে পারেন সেগুলো হলো—বাংলা ভাষারীতি, বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়, ধ্বনি ও বর্ণ, ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান, বানান শুদ্ধিকরণ, বাক্য শুদ্ধিকরণ, সন্ধি, লিঙ্গ, পুরুষ, দ্বিরুক্ত শব্দ, বচন, সমাস, উপসর্গ। এ ছাড়া সমার্থক ও বিপরীত শব্দ, বিভিন্ন ধরনের প্রতিশব্দ, শব্দের বিশিষ্ট অর্থ ও প্রয়োগ, প্রায় সমোচ্চারিত শব্দ, পদ প্রকরণ, ক্রিয়ার কাল, ক্রিয়ার ভাব, কারক ও বিভক্তি, অনুসর্গ, বাক্য, প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, বাক্য সংকোচন, বাগ্​ধারা, প্রবাদ-প্রবচন, বাচ্য, বিরাম ও যতি চিহ্ন, পারিভাষিক শব্দ, অনুবাদ ও অলংকার ভালোভাবে পড়তে হবে।

গণিত
প্রিলিমিনারিতে সবচেয়ে বেশি নম্বর গণিতে। ৩০ নম্বর বরাদ্দ এ অংশে। তাই সহজেই বুঝা যায়, গণিতের গুরুত্ব সর্বাধিক। অনেকে গণিতে ভালো কিন্তু পরীক্ষার হলে দ্রুত করতে পারেন না। অনুশীলন কম থাকায় এ সমস্যা হয়। তাই গণিতে ভালো করতে অনুশীলনের বিকল্প নেই। সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির বোর্ডের পাঠ্যবইয়ের পাটিগণিত অংশ নিয়মিত অনুশীলন করলে অনেকটাই এগিয়ে থাকা যায়। এ ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ের দিকে বেশি নজর দিতে হবে সেগুলো হলো—সংখ্যাগত সমস্যা ও সম্পর্ক নির্ণয়, বয়স নির্ণয়–সম্পর্কিত সমস্যা, গড়, শতকরা, সাধারণ ও ভগ্নাংশ সমীকরণ, অসমতা, সূচক-লগারিদম, বীজগাণিতীয় বিভিন্ন সূত্র ও সূত্র দিয়ে সমস্যার সমাধান। এ ছাড়া সেট, ভেনচিত্র, সামান্তর ও গুণোত্তর ধারা, রেখা ও কোণ, ত্রিভুজ-চতুর্ভুজ-বহুভুজ, বৃত্ত, ত্রিকোণমিতি, পরিমিতি, বিন্যাস, সমাবেশ, সম্ভাব্যতা, মিশ্রণ-অনুপাত, অংশীদারত্ববিষয়ক সমস্যার সমাধান, লসাগু-গসাগু, দশমিক ও বাইনারি সংখ্যা, নৌ ও রেলের গতি-সময়-দূরত্ব নির্ণায়ক সমস্যা পড়তে হবে।

ইংরেজি
প্রিলিমিনারিতে গণিতের পরই ইংরেজির গুরুত্ব। অনেক প্রার্থীকে দেখেছি যাঁরা সফল হয়েছেন, তাঁদের ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে দক্ষতা অন্যদের চেয়ে ভালো। তাই ইংরেজিতে ভালো করা মানে অনেক প্রার্থীর চেয়ে এগিয়ে থাকা।

আগের বছরের প্রশ্নগুলো পর্যালোচনা করলে কিছু কমন বিষয় পাওয়া যায়, যেগুলো থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। সেগুলো হলো—অ্যানালজি, ইডিয়মস অ্যান্ড ফ্রেজ, অনুবাদ, প্রিফিক্স, সাফিক্স, ইংরেজি বানান, ভয়েস চেঞ্জ, ন্যারেশন ও পদ প্রকরণ। এ ছাড়া ইংরেজি সাহিত্যও পড়তে হবে। ইংরেজি পত্রিকা নিয়মিত পড়লেও ভালো কাজে আসে।

সাধারণ জ্ঞান
এ অংশে ভালো করতে নিয়মিত পত্রিকা পড়ার বিকল্প নেই। দেশ ও বিদেশে কোথায় কী ঘটেছে, তা সম্পর্কে পূর্ণ ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। এ ছাড়া জানতে হবে ভৌগোলিক গুরত্বপূর্ণ তথ্য (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক), মানবাধিকারসংক্রান্ত সংস্থা–সংগঠন ও সম্মেলন, আন্তর্জাতিক সংগঠন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশের সংবিধান, জনশুমারি, বাজেট, আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী ইস্যু, পরিবেশবাদী সংস্থা, বাংলাদেশের জাতীয় অর্জন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, বিভিন্ন অর্থনৈতিক রিপোর্ট ও সমীক্ষা এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে।

তথ্যপ্রযুক্তি
বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি–সম্পর্কিত অনেক প্রশ্ন নিয়োগ পরীক্ষায় এসে থাকে। এ অংশে ভালো করতে কম্পিউটার–সম্পর্কিত মৌলিক জ্ঞান থাকা বাঞ্ছনীয়। কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম, ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস, এমএস ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট, ডেটাবেইস ও ডেটা কমিউনিকেশন, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার, কম্পিউটারের নম্বর সিস্টেম ও কম্পিউটারের ভাষা সম্পর্কে পড়তে হবে।