বাংলাদেশে ক্যাম্পাস খুলতে চায় ১৪ বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, একটির অনুমোদন

বাংলাদেশে ক্যাম্পাস খুলে কার্যক্রম চালু করতে আবেদন করেছে ১৪ বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়। এরমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মনাশ কলেজকে ‘স্টাডি সেন্টার’ চালুর অনুমোদন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া আরও দুইটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিতে সম্মতি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামেই শিক্ষা কার্যক্রম চালুর আবেদন করেছে ১৪টি বিদেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যার মধ্যে এডুকো বাংলাদেশ লিমিটেড বসুন্ধরায় প্রস্তাবিত এলাকা দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মনাশ কলেজের স্টাডি সেন্টারের জন্য আবেদন করে। বিএসি ইন্টারন্যাশনাল ধানমন্ডিতে প্রস্তাবিত এলাকা দিয়ে আবেদন করে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব ডার্বের স্টাডি সেন্টারের জন্য। এশিয়ান সেন্টার ফর ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি গুলশান-২ এলাকার ক্যাম্পাস স্থাপনের প্রস্তাব দিয়ে লন্ডন স্কুল অব কমার্সের স্টাডি সেন্টারের আবেদন করেছে। এছাড়া বিভিন্ন বিদেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য আবেদনকারী অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, এশিয়া ইউনিভার্সিটি স্টাডি সেন্টার ইন বাংলাদেশ, মাশা ইউনিভার্সিটি (মালয়েশিয়া) স্টাডি সেন্টার, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি, ভূঁইয়া একাডেমি, হিকমা লিমিটেড, ক্যামব্রিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্টাডি সেন্টার, এনইউবি ইন্টারন্যাশনাল স্টাডি সেন্টার, বিএসবি ফাউন্ডেশন, ইনসাইট ইনস্টিটিউট অব লার্নিং লিমিটেড, লিংকন ইউনিভার্সিটি কলেজ।

এদিকে ইউজিসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এর মধ্যে গত বছর পর্যন্ত আরও ৮৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য আবেদন জমা পড়েছে। অন্যদিকে বর্তমানে দেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে ৪৯টি।

জানা গেছে, অনুমোদন ছাড়াই বাংলাদেশে অবৈধভাবে বিদেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালানোয় প্রায় ৫৬টি বিদেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করে বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছিল ইউজিসি। পরে ২০১০ সালে করা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালুর বিষয়ে একটি সুযোগ রাখা হয়। এরপর ২০১৪ সালের ৩১ মে ‘বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনা বিধিমালা’ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিধিমালায় বিভিন্ন শর্তে বাংলাদেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার স্থাপনের কথা বলা হয় যেখানে দেশি ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় মিলে যৌথ ক্যাম্পাস চালুর সুযোগও রাখা হয়। বিধিমালা জারির পর থেকেই বিভিন্ন সময় ১৪টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে।

ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৬টি শর্তে অস্ট্রেলিয়ার মনাশ কলেজের স্টাডি সেন্টারের জন্য অনুমোদন দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অস্ট্রেলিয়ার বাইরে মালয়েশিয়াসহ একাধিক দেশেও রয়েছে মনাশের কার্যক্রম।

এছাড়া ইউজিসি লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব ডার্বে এবং লন্ডন স্কুল অব কমার্সের স্টাডি সেন্টারের অনুমোদন দেওয়ার বিষয়েও ইতিবাচক মত দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির একজন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা। তবে বাকিদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে অনুমোদন পেলেও মনাশ কলেজ এখনো পরবর্তী কার্যক্রম চালুর বিষয়ে তাদের কিছু জানায়নি বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস খুলে কার্যক্রম চালু করতে তাদের কাছে যদি আরও কেউ আবেদন করে তাহলে সেগুলোর বিষয়ে পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হব বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

বিশ্বায়নের যুগে খ্যাতিমান দু-চারটি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম দেশে চালু করা যেতে পারে উল্লেখ করে ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম জানান, এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একধরনের প্রতিযোগিতা বাড়বে।

তবে মানসম্মত শিক্ষা দেয়ার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না জানিয়ে তিনি বলেন, এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসিকে আরও বেশি দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনোভাবেই যেনতেন বিদেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুযোগ দেওয়া যাবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।