বন্ধ হচ্ছে সোনার বাংলা ও উপকূল এক্সপ্রেস

যাত্রী কম হওয়ায় ও ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ট্রেন চলাচল সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামীকাল (২০ জুন) শনিবার থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ও ঢাকা-নোয়াখালী উপকূল এক্সপ্রেস চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগের মতোই ট্রেন চলবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক শামসুজ্জামান। করোনার কারণে ২ মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ৩১ মে থেকে দুটি পর্বে ১৯ জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেন সীমিত আকারে চালানো শুরু হয়।

রেলওয়ে মহাপরিচালক শামছুজ্জামান আরও বলেন, ট্রেনে যাত্রী সংখ্যা একেবারেই কম। তাই চলমান ট্রেনগুলোর মধ্যে কিছু ট্রেন বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। করোনা প্রতিরোধ ও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনে যাত্রী ও ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এমনটি করা হচ্ছে। সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ও ঢাকা-নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে। এছাড়া রেড জোন দিয়ে চলাচলকারী ট্রেনগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কম যাত্রী নিয়ে চললেও ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সব কর্মকর্তা, কর্মচারীর মাঠে কর্মরত থাকতে হয়। এতে করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে যাত্রী কম হওয়ায় ট্রেন চালিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না।

রেলের পরিবহণ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পূর্বাঞ্চল রেলে যে ক’টি ট্রেন চলাচল করছে সেগুলোতে যাত্রী সংখ্যা কম। করোনা প্রতিরোধ ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে প্রতিটি ট্রেনে ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি করার সিদ্ধান্ত আছে। কিন্তু ২০ শতাংশ টিকিটও বিক্রি হচ্ছে না।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, পশ্চিমাঞ্চলে ১৮ জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। রাজশাহী বর্তমানে গ্রিন জোন। তবে অধিকাংশ ট্রেনই যাত্রী কম নিয়ে চলাচল করছে। ট্রেন নির্ধারিত বগি এবং জনবল দিয়েই চালাতে হয়। এছাড়া রেলপথ ও স্টেশনগুলোতে দায়িত্বশীল সবাইকে উপস্থিত থাকতে হয়। ফলে ঝুঁকি নিয়ে সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। অর্ধেক যাত্রী হলেও আমাদের ভালো লাগত। কিন্তু দিন দিন যাত্রী সংখ্যা একেবারেই কমে যাচ্ছে।

ঢাকা রেলওয়ে বিভাগীয় প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা শওকত জামিল মোহসী জানান, সোনার বাংলা ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস ট্রেন দুটির অগ্রিম টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। দুটি ট্রেন ২০ ও ২১ জুন চলাচল বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশনা এসেছে। ফলে ওই দুটি ট্রেন ঢাকা স্টেশন থেকে ওই তারিখ থেকে চলাচল করবে না।

তিনি আরও বলেন, যাত্রীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে এমনটা দেখা যাচ্ছে। তাছাড়া টিকিট বিক্রি হচ্ছে খুবই কম। আমরা কমলাপুর স্টেশনে যথাযথ দায়িত্ব পালন করছি। সরকার তথা রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি। এখনও যারা ট্রেন ভ্রমণ করছেন করবেন, তাদের প্রতি অনুরোধ স্বাস্থ্যবিধিসহ রেলওয়ের ১৯টি নির্দেশনা মেনে ট্রেন ভ্রমণ করলে ঝুঁকি কমে যাবে।