বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বাজেট

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য ৬০১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। গত বছর এ বাজেটের পরিমাণ ছিল ৫২৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের বি-ব্লকে ডা. মিলন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান এসব তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়াসহ সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বাজেট উপস্থাপন করে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক মাহামরি করোনাভাইরসের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের জন্য ৬০১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৮.৭৮ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৬০১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বাজেটের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ২৩০ কোটি টাকা, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন থেকে ১৪০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় থেকে ৫৫ কোটি টাকাসহ মোট ৪২৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করবে। এতে মোট ঘাটতির পরিমাণ ১৭৬ কোটি ৯ লাখ টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে চাওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেটে বেতন ভাতা খাতে মোট ২৬৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দৈনিক ভিত্তিক কর্মচারীদের বেতন ববাদ ২০ কোটি ৫০ লাখ, পথ্য বাবদ ৭ কোটি, পরিস্কার ও পরিচ্ছন্নতা বাবদ ৮ কোটি ৫০ লাখ, নিরাপত্তা প্রহরীর বেতন বাবদ ৮ কোটি ৫০ লাখ, রেসিডেন্সিদের সম্মানি বাবদ ৩৯ কোটি ২১ লাখ, রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ১৫ কোটি, পেনশন বাবদ ৩৪ কোটি ২২ লাখ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বছর গবেষণা ও প্রশিক্ষণ খাতে ১৯ কোটি এবং চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ক্রয় উপখাতে ১০৪ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এছাড়াও করোনাকালীন সংকট মোকাবেলায় সিন্ডিকেটের অনুমোদন নিয়ে ২৫ কোটি টাকা ‘থোক’ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ৬ মাস বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা সেবাসহ সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে ৭৬ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।

লিখিত বাজেট বক্তব্যে উন্নয়ন কর্যক্রামের তথ্য তুলে ধরে ডা. আতিকুর রহমান বলেন, বিএসএমএমইউকে এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সফলভাবে লিভার ট্রান্সপ্লানটেশন সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে স্বল্পব্যয়ে লিভার ট্রান্সপ্লানটেশন এর কার্যক্রম আরও বড় আকারে শুরু করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি বিভাগ স্বল্প পরিসরে শুরু হলেও তা বর্ধিতকরণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা অটোমেশনের আওতায় নিয়ে এসে অনলাইনের মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে। রেসিডেন্সিদের সম্মানি অটোমেশনের মাধ্যমে পরিশোধ করার প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাধারণ তহবিলের ইনক্রিমেন্ট হার ১০ দশমিক ৭০ ভাগ থেকে বৃদ্ধি করে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শতকরা ১৩ ভাগ করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই কার্যকর করা হয়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল যন্ত্রপাতির স্থায়ী সম্পদের ইনভেনটরি তৈরি করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এর আগে একই স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম সিন্ডিকেট সভায় সিন্ডিকেটের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সিন্ডিকেটের সকল সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে এই বাজেট অনুমোদিত হয়।