ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাজ্যে পড়ার সুযোগ

যুক্তরাজ্যে বিদেশী শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার জন্য একটি জনপ্রিয় স্কলারশিপ হলো ব্রিটিশ শেভেনিং স্কলারশিপ। এ স্কলারশিপের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে মাস্টার্স ডিগ্রী প্রত্যাশীদের পড়াশুনার সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে। যুক্তরাজ্যে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্স ডিগ্রী নিয়ে পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য ২ আগস্ট থেকে শেভেনিং স্কলারশিপের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। আবেদনের শেষ সময় আগামী ১ নভেম্বর।

এ স্কলারশিপের অফিসিয়াল নাম শেভেনিং মাস্টার্স স্কলারশিপ। যা ১৯৮৩ সাল থেকে ফরেন এন্ড কমনওয়েলথ অফিসের অর্থায়নে যাত্রা শুরু করে। প্রতি বছর প্রায় ১৫০০ শিক্ষার্থীকে এ স্কলারশিপ এর আওতায় যুক্তরাজ্যে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জনের সুযোগ দেওয়া হয়। বিশ্বের ১৪৪টি দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এ স্কলারশিপ প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করতে পারেন।

বাংলাদেশসহ নেপাল, ভারত, রাশিয়া, পাকিস্তান, চীন, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, সাউথ কোরিয়া, ব্রাজিল ইত্যাদি দেশেরত শিক্ষার্থীরা আবেদন করেন এ স্কলারশিপ প্রোগ্রামে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থী ও ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দেবেন—এমন যোগ্যতাসম্পন্ন তরুণদের বৃত্তির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনামূল্যে স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ করে দেয় শেভেনিং বৃত্তি। এ বৃত্তির আওতায় যুক্তরাজ্যের একটি নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর করার সুযোগ পাওয়া যায়। এ বৃত্তি পেলে যুক্তরাজ্যের ১৫০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো একটিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য অধ্যয়ন করতে পারবেন। বৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সামাজিক দক্ষতা, নেতৃত্বদানের অভিজ্ঞতা, নিজের দেশ ও সমাজের ওপর ইতিবাচক প্রভাবের দিকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৃত্তির মাধ্যমে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে শিক্ষার্থীদের দুই বছর কাজের অঙ্গীকার করতে হয়।

আবেদন যোগ্যতা:

> আবেদনকারীকে শেভেনিং স্কলারশিপের আওতাভুক্ত দেশের নাগরিক হতে হবে।

> বৃত্তির মাধ্যমে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে শিক্ষার্থীদের দুই বছর কাজের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে।

> নিজ দেশে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন হতে হবে।

> অন্তত দুই বছর (২৮০০ ঘণ্টা) কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

> যারা স্কলারশিপ পাবেন, তাদের ২০২৩ সালের ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাজ্যের তিনটি ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্সের জন্য আবেদন করতে হবে।

> ব্রিটিশ বা ডুয়েল ব্রিটিশ নাগরিক হলে আবেদন করা যাবে না।

> যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে আগে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করলে আবেদন করা যাবে না।

সুযোগ-সুবিধা: শেভেনিং স্কলারশিপ একটি ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ।

> বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি

> মাসিক বৃত্তি

> দেশ থেকে যুক্তরাজ্য যাওয়া–আসার ভ্রমণ ব্যয়

> যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর ভাতা

> ভিসা আবেদনের ফি

> যুক্তরাজ্যে শেভেনিংয়ের বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য ভ্রমণ ভাতা।

> প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদ, রেফারেন্স, যুক্তরাজ্যের অন্তত একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শর্তহীন অফার লেটার অনলাইনে সাবমিট করতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

> ইংরেজি ভাষায় দুটি রেফারেন্স লেটার বা সুপারিশপত্র।

> পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র।

> সর্বশেষ পড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ ।

আবেদনের নিয়ম: যুক্তরাজ্য সরকারের শেভেনিং বৃত্তির জন্য অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ভর্তির ‘অফার লেটার’ সংযুক্ত করতে হবে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচনের পর মৌখিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশনে। আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।