প্রাথমিক শিক্ষকদের সুখবর দিয়ে সচিব বললেন— বিশাল অর্জন এটি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিম্ন ধাপের সহকারী শিক্ষকদের বেতন বাড়াতে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিগগির শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির জিও জারি করা হবে।

বুধবার ( ২৯ জুলাই) দ্রুততম সময়ের মধ্যে সহকারী শিক্ষকদের বেতনের জিও জারির বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম-আল হোসেন ও অর্থ বিভাবের সচিবের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সহকারী শিক্ষকদের বেতনের জিও জারি নিয়ে আজ বুধবার রাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম-আল-হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

ফেসবুকের ওই পোস্টে আকরাম-আল-হোসেন জানান, ‘‘আজ অর্থ বিভাগের সচিবের সাথে আপনাদের উচ্চ ধাপে বেতন নির্ধারণের বিষয়ে কথা বলেছি। তিনি উচ্চ ধাপে আপনাদের বেতন নির্ধারণ হবে মর্মে আমাকে কথা দিয়েছেন এবং খুব দ্রুত জিও জারি করবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। এটি একটি বিশাল অর্জন । আপনাদের প্রতি রইল অভিনন্দন ও আন্তরিক শুভেচ্ছা। আশা করি মান সম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করণে আপনারা আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দুই হাজার একচল্লিশ সালের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন সেই বাংলাদেশ গড়ার জন্য প্রস্তুত করবেন।’’

জানা গেছে, ১১তম গ্রেডের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছিলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পরে তাদের বেতন গ্রেড উন্নীত হয়। শিক্ষকদের চাওয়া ছিল ১১তম গ্রেড। কিন্তু তাদের দেওয়া হয় ১৩তম গ্রেড। এতে নিম্নধাপে মূল বেতন ফিক্সেশন করলে উল্টো বেতন কমে যাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতির শিকার হবেন লাখ লাখ শিক্ষক। কারণ বেশিরভাগ শিক্ষকই ইনক্রিমেন্ট পেয়ে আগে থেকে ১৩ গ্রেডের কাছাকাছি বা বেশি বেতন পাচ্ছেন।

বিষয়টি সুরাহা করার পদক্ষেপ নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নিম্নধাপের শিক্ষকদের একধাপ ওপরে বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করে চিঠিতে দেওয়া হয় অর্থ বিভাগে।

প্রস্তাবে বলা হয়, সারাদেশে ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৭২ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল উন্নীতকরণ শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হওয়ার পরও শিক্ষকগণের বর্তমান মূল বেতনের নিম্ন ধাপে বেতন নির্ধারণের কারণে মাঠ পর্যায়ে শিক্ষকদের মাঝে হতাশা এবং অসন্তোষ বিরাজ করছে। ফলে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হওয়ার পরিবর্তে ক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এমতাবস্থায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতো সংশ্লিষ্ট বেতন স্কেলের উচ্চধাপে বেতন নির্ধারণে অর্থ বিভাগের নির্দেশনা জারির জন্য অনুরোধ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।