প্রাথমিকে ১৩তম গ্রেড বঞ্চিত হতে পারেন অনেক সহকারী শিক্ষক

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক জটিলতা তৈরি হয়েছে। নিয়োগকালে শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা দুই ধরনের থাকায় সবাই নতুন স্কেলে বেতন পাবেন কিনা, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা নানা ধরনের সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন।

জানা গেছে, কোনো কোনো উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদেরর মতে, যারা উচ্চ মাধ্যমিক পাস তারা ১৩তম গ্রেডে বেতন পাওয়ার যোগ্য নন। আবার অনেকে মনে করছেন, সরকারি প্রজ্ঞাপনে সুনির্দিষ্টভাবে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে না দেওয়ায় সব সহকারী শিক্ষকই নতুন সুবিধা পাবেন। দ্বিতীয়টিতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের বড় অংশই একমত।

তবে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষকরা সবাই বর্ধিত বেতনের সুবিধা পাবেন না। কারণ সর্বশেষ নিয়োগবিধি-২০১৯ অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষকদের যোগ্যতা দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। নিয়োগবিধি অনুসারে কম যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড দেওয়ার সুযোগ নেই।

বর্তমানে ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন লাখ ৫২ হাজার সহকারী শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এরমধ্যে ৬০ শতাংশই নারী। আগের নিয়োগবিধিতে নারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক ছিল। আর পুরুষদের জন্য স্নাতক। এ কারণে স্নাতক দ্বিতীয় শ্রেণি যোগ্যতা নির্ধারণ করা হলে বড় অংশই ১৩তম গ্রেড পাবেন না, যার অধিকাংশই নারী শিক্ষক।

কয়েকজন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে স্পষ্টীকরণ পত্র জারি করা দরকার। নাহলে বিভ্রান্তি থেকেই যাবে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম আল হোসেন সাংবাদিকদেরকে বলেছেন, ‘শিক্ষকরা সবাই যাতে সুবিধা পান, তা নিয়ে কাজ করছি আমরা।’

গত ৯ ফেব্রুয়ারি শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। যদিও শিক্ষকদের দাবি ছিল ১১তম গ্রেড। পরে ১৩তম গ্রেডের সুবিধাপ্রাপ্তি নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। কারণ, শিক্ষকদের বেতন বর্তমানের চেয়েও কমে যাচ্ছিল। পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে সে জটিলতার সমাধান হয়। কিন্তু সব সহকারী শিক্ষকের সুবিধা দেওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ নির্দেশনা-সংক্রান্ত চিঠি জারির পর গত ১৩ আগস্ট কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে শুধু স্নাতক দ্বিতীয় শ্রেণি বা স্নাতকোত্তর পাস শিক্ষকদের কাগজপত্র নিয়ে যোগাযোগ করার জন্য ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া হয়। পরে ১৬ আগস্ট খুলনার দীঘলিয়া উপজেলার শিক্ষা অফিসের ফেসবুক পেজেও পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানেও বলা হয়, শুধু স্নাতক দ্বিতীয় শ্রেণি পাওয়া শিক্ষকরাই ১৩তম গ্রেড পাবেন।

এছাড়া ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাসার মো. বাহাউদ্দীন একটি অফিস আদেশ জারি করেন। তাতেও লেখা হয়, ১৩তম গ্রেডের প্রজ্ঞাপনের শর্তের ‘ক’ ধারায় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯-এর তফসিল (বিধি-২ গ) অনুযায়ী, দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকা প্রযোজ্য। আদেশটি ফেসবুকে আসার পর শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

শিক্ষকদের প্রতিবাদের মুখে পোস্টটি সরিয়ে নেয় এবং আগের আদেশ বাতিল করে নতুন আদেশ জারি করে। এ নিয়ে আবুল বাসার মো. বাহাউদ্দীন বলেন, ‘সবাই এই গ্রেডে বেতন পাবেন কিনা, তা স্পষ্ট নয়। স্পষ্টীকরণ কোনো চিঠি পাইনি।’

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, ‘বিধিমালা অনুসারে সব সহকারী শিক্ষকই ১৩তম গ্রেড পাবেন। ২০১৪ সালের উন্নীত স্কেলের প্রজ্ঞাপনেও এ শর্ত ছিল। কিন্তু তখনও কোনো শিক্ষক উন্নীত স্কেল থেকে বঞ্চিত হননি। আমরা এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় হিসাবরক্ষণ অফিসের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চাই, যাতে সব শিক্ষকের ১৩তম গ্রেড প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়।’