প্রাথমিকে সাড়ে ৪৮ লাখ শিক্ষার্থীর খোঁজ নেই

দীর্ঘ বন্ধের পর গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয় খোলার পর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সংখ্যা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে বলা হয়। সেই তথ্য অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী অনুপস্থিত। সংখ্যা যে ৪৮ লাখেরও বেশি।

ডিপিই সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৬টি। গত বছরের হিসেব অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ কোটি ২৭ লাখ ৫২ হাজার ১৫৮ জন। এর মধ্যে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে। সংখ্যার হিসেবে যা ৪৮ লাখ ৩৫ হাজার ৫৭৮ জন।

সূত্র জানায়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ১৪ সেপ্টেম্বর ৭৩ দশমিক ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত ছিল। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৭০ দশমিক ২৭ শতাংশ, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৪ দশমিক ৫১ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৭১ দশমিক ৩৫ শতাংশ, খুলনায় ৮১ দশমিক ৪৬ শতাংশ, সিলেটে ৬৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ, বরিশালে ৭৬ দশমিক ২৯ শতাংশ, রাজশাহীতে ৭৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ ও রংপুর বিভাগে ৭৬ দশমিক ১১ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যেসকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা অনুপস্থিত, তাদের অভিভাবকরা অধিকাংশই গ্রামে চলে গেছে। তারা আর ফিরে আসতে চায় না। বিশেষ করে জেলা শহরগুলো থেকে চলে যাওয়া শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আর ফিরে আসবে না।

দেশের বেশ কয়েকজন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সব খানেই অনুপস্থিতির সংখ্যা ২০ শতাংশ বা তার কিছু বেশি। এটি একটি চিন্তার কারণ। কেননা ২০ শতাংশ একটি বড় সংখ্যা। তারা নানাভাবে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তবে আর্থিক সংকট, আয়-রোজগার কমে যাওয়া, কর্মসংস্থানের অভাবসহ নানা কারণে শিশুদের বিদ্যালয়ে ফেরানো কঠিন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, আমরা শিক্ষার্থীদের খুঁজছি, অভিভাবকদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করছি। তবে দীর্ঘ অনুপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে অনেকের। সরকার এ ব্যাপারে উদ্যোগ না নিলে অনেক শিক্ষার্থী আবার ঝরে পড়তে পারে।