প্রস্তুতি ছাড়াই শুরু অনলাইন ক্লাস, ভোগান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ডিভাইস ও ডেটা সুবিধা নিশ্চিত করার পর অনলাইন ক্লাস চালুর দাবি জানিয়ে আসছিল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। যদিও তেমন কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই অনলাইনে পাঠদান শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউট। এর ফলে একদিকে উপকরণের অভাবে ক্লাস বঞ্চিত হচ্ছেন অনেক শিক্ষার্থী। আবার অন্যদিকে উপকরণ ও প্রশিক্ষণ না থাকায় ক্লাস নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেক শিক্ষককে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অনেক শিক্ষার্থীর পরিবারেরই আর্থিক অবস্থা খুবই দুর্বল। এসব শিক্ষার্থীরা টিউশন বা পার্ট টাইম চাকরি করে পড়ার খরচ চালায়। তবে নভেল করোনা মহামারীর কারণে এখন আয়ের পথ বন্ধ। এসব শিক্ষার্থীর অনেকেরই স্মার্ট ফোন নাই। আবার এমন সংকটের মধ্যে নতুন করে ফোন কেনাও সম্ভব নয়। অনেক শিক্ষার্থীরই ফোন থাকলেও ডেটা কেনার অর্থ নেই। আবার অনেক শিক্ষার্থী ডেটা কিনেও দুর্বল সংযোগের কারণে ক্লাসে অংশ নিতে পারছেন না। সবমিলে অনলাইন ক্লাস নিয়ে ভোগান্তির শিকার গ্রামাঞ্চল ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা।

অনলাইন ক্লাসের সংকট নিয়ে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী জাকির বলেন, ‘আমাদের অনেকেই ক্লাসে অংশগ্রহন করতে পারছি না নানা সংকটের কারণে। অনেকের মোবাইল ফোন নাই। অনেকের থাকলেও নেট কিনার টাকা নাই। আবার অনেকে নেট সমস্যার কারণে ক্লাসে অংশগ্রহন করতে পারেনি।’

আরেক শিক্ষার্থী ফারুক হাসান বলেন, ‘গতক্লাসে আমি ক্লাসে অংশগ্রহন করি যথা সময়ে কিন্তু নেট সমস্যার কারণে ক্লাস বুঝতে পারিনি।’

এদিকে অনলাইন ক্লাস নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে খোদ শিক্ষকরাও। তারা জানিয়েছেন, অনেক শিক্ষকের ল্যাপটপ নাই। আবার অনেক শিক্ষকের ল্যাপটপ থাকলেও প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাব রয়েছে। যার ফলে তাদের অনলাইন ক্লাস নিতে অন্য কারো উপরে নির্ভরশীল হতে হচ্ছে।

নাম না প্রকাশের শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের একজন শিক্ষক বলেন, ‘আমার ল্যাপটপ নাই। আমাদের অনেক নতুন শিক্ষকের বেতন একটি মোবাইল ফোনের দামের সমান। আমার মতো অনেক শিক্ষকের ল্যাপটপ নাই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ করবো।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের অনেক শিক্ষার্থীর বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এগুলো অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। এগুলো আমাদের এড্রেস করতে হবে। এগুলো এড্রেস না করলে আমাদের ইনক্লুসিভ কোয়ালিটি এডুকেশন প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা সেই দর্শনটি খুব গভীরভাবে ধারণ করি।’ শিক্ষকদের সমস্যার ব্যাপারে বলেন, ‘এগুলো আমরা আমলে রাখছি। আমাদের অনেকগুলো বিষয়ে ক্যাপাসিটি বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে।