প্রথম নারী উপাচার্যের এক বছরে কী পেল চবি?

গত বছরের ১৩ জুন রুটিন দায়িত্ব প্রাপ্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইতিহাসে প্রথম নারী উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। পরে একই বছরের ৩ নভেম্বর উপাচার্যের পূর্ণ দায়িত্ব পান তিনি। তবে গত এক বছরে নতুন উপাচার্যকে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে দেখা যায়নি। এছাড়া এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যমান কোন অগ্রগতিও হয়নি মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঝুঁলে আছে যেসব প্রকল্প: সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর সময়ে শুরু হওয়া বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও আংশিক সম্পন্নের পর স্থগিত হয়ে যায়। গত ১ বছরে সেসব প্রকল্পের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। এর মধ্যে রয়েছে- সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সংস্কার কাজ, জিরো পয়েন্ট থেকে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবন পর্যন্ত ওয়াকওয়ে নির্মাণ, নতুন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবন, চবি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের চার তলা ভবন নির্মাণ, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সামনে দৃষ্টিনন্দন ঝর্ণাসহ কয়েকটি প্রকল্প।

আবাসিক হলে আসন বরাদ্দে টালবাহানা: চবির আবাসিক হলগুলোতে সর্বশেষ ২০১৭ সালের জুন মাসে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর সময়ে আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই দফায় আসন বরাদ্দের সাক্ষাৎকারের তারিখ ঘোষণা করা হলেও অজ্ঞাত কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। ফলে এখনো সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকেই নিজেদের আবাসিক হলে থাকার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বিতর্কিত ভর্তি পরীক্ষা: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ সেশনের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ছিলো সবচেয়ে সমালোচিত। ফলে হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত ঘটনা। সর্বশেষ হাইকোর্টের রায় গিয়েছিলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।

গত বছর ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষায় ন্যাশনাল কারিকুলামের ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন ছাপানোয় অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণ দেখিয়ে ফল প্রকাশ স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া একই পরীক্ষায় অন্যান্য ইউনিটে চান্স পেয়েও ভর্তি হতে না পারায় সার্কুলারের অস্পষ্টতা উল্লেখ করে ক্যাম্পাসে ও পরে ক্যাম্পাসের বাইরে মানববন্ধন, ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন ইউনিটে চান্সপ্রাপ্ত ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা।

উন্নয়ন ফান্ডের টাকায় শিক্ষকদের ব্লেজার: কলা ও মানববিদ্যা অনুষদে নবীনবরণ উপলক্ষে চবি উপাচার্যসহ ১৮ জন শিক্ষকের জন্য বানানো হয় সাড়ে ছয় হাজার টাকা দামের একটি করে ব্লেজার। প্রতিবছর নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিভাগের সভাপতি ও ইনস্টিটিউটের পরিচালকদের ক্রেস্ট উপহার দেওয়া হলেও এ বছর দেওয়া হয়েছে শুধু ব্লেজার। যার খরচ বহন করা হয় অনুষদের উন্নয়ন ফান্ড থেকে।

সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ বন্ধ: সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর হাত ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়। সীমানা চিহ্নিত করণের দায়িত্ব অর্পিত হয় চবির পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রবীণ শিক্ষক অধ্যাপক ড. অরুন কুমার দেবের উপর। এর ৬৫ ভাগ কার্যক্রম সম্পন্নও হয়েছিল। গত বছর জুন মাসে অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার দেব শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসরে যান। এরপর থেকে সীমানা প্রাচীর নিমার্ণের কাজও বন্ধ হয়ে যায়।

একই বছর জুন মাসে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১ বছর পার হলেও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হল, শাহজালাল হলসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে খুলে নেওয়া হয়েছে সীমানা প্রাচীরের গ্রিল।

এছাড়া গত একবছরে সরকারবিরোধী, কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে অংশ গ্রহণকারী ও সমালোচিত অনেক শিক্ষককে প্রশাসনিক বিভিন্ন দায়িত্বে বসানোর অভিযোগ উঠেছে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি সময় নিয়ে বসে কথা বলতে হবে জানান।