প্রথমেই খুলবে বিশ্ববিদ্যালয়

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি আছে। এ অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবি জানিয়ে আসছে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

এদিকে, বন্ধ থাকা এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে খুলে দেওয়া হবে তা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেনি সরকার। তবে অন্য সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আগে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরই অংশ হিসেবে চলতি মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকাদানও শেষ করতে চায়। বিশেষ করে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক শিক্ষার্থীদের দুই ডোজ টিকাদান শেষ হলেই সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকাদান শেষ করা হবে। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও টিকাদান দ্রুত শেষ করা হবে। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ক্লাস কার্যক্রম সশরীরে শুরু করতে চায় মন্ত্রণালয়। এরপর কলেজ এবং সবশেষ মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলার পরিকল্পনা করেছে সরকার।

গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া তথ্য তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, টিকার জন্য ১ লাখ ৭৯ হাজার ২৬১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রথম ডোজ টিকা পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৯১৪ জন, দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৬ হাজার ৭২ জন। টিকা প্রদানের কাজ খুবই দ্রুত শেষ হবে এমনটি আশা করেন তিনি।

তবে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪২ লাখ। এর মধ্যে ৩৯ লাখই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থী, যাদের বেশির ভাগেরই আবাসিক হলে থাকার সুযোগ নেই। আবার সরকারি কলেজের আবাসিক হলগুলোতেও কত শিক্ষার্থী আছে তার সঠিক হিসাব নেই। ফলে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার সব শিক্ষার্থীকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

ইউজিসি বলছে, শিক্ষার্থীদের করোনা টিকা দেয়া শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল-ক্যাম্পাস খোলা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ইউজিসির কোনো আপত্তি থাকবে না। তবে টিকা না দেয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার জন্য সংক্রমণ কমার অপেক্ষা করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, আগস্ট মাসের মধ্যে যদি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা কার্যক্রম শেষ হয়ে যায় তাহলে আগস্টে হল-ক্যাম্পাস খোলা যাবে। তবে এই সময়ের মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া টিকা দেয়া হচ্ছে না। এতে করে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ এখনো টিকার নিবন্ধন করতে পারেনি। আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে বিকল্প উপায়ে শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার অনুরোধ করলেও এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। এর মধ্যে আবাসিক হলে থাকেন ১ লাখ ৩০ হাজার। তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের টিকা দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পক্ষে মত দিয়েছেন কোভিড-সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির সদস্যরাও।

সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনেকেই ভ্যাকসিন নিয়ে নিতে পারবে হয়তো। তাতে ইউনিভার্সিটি আগে খোলা যেতে পারে। তারপরে কলেজগুলো।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী সংখ্যা কম। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানানোও সম্ভব হবে হয়ত। মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি। ফলে স্কুল খোলা নিয়ে আমাদের ভীষণ ভাবতে হচ্ছে।