প্রতিষ্ঠার দুই বছর পর গেজেটের কথা মনে পড়ল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের!

‘অভিস্বীকৃতি (অ্যাক্রেডিটেশন) কাউন্সিল আইন পাস হয় ২০১৭ সালের মার্চ । ওই বছরই গঠন করা হয় বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল। চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ দেয়ার পর একাধিক পূর্ণ কাউন্সিল সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও প্রতিষ্ঠাকালে ভুলক্রমে এ-সংক্রান্ত কোনো প্রজ্ঞাপনই (গেজেট) জারি করেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে সম্প্রতি কাউন্সিলের জনবল কাঠামো অনুমোদনের জন্য প্রজ্ঞাপনের প্রয়োজন হলে ভুল ভাঙে মন্ত্রণালয়ের। গত রোববার বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার আদেশ প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়।

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তাদের প্রোগ্রাম স্বীকৃতি দিতে উন্নত বিশ্বের সব দেশেই এ ধরনের বিভিন্ন বডি রয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মধ্যে মিয়ানমার ছাড়া সব দেশেই অ্যাক্রেডিট প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশেও গঠন করা হয়েছে এ ধরনের কাউন্সিল। অভিস্বীকৃতি (অ্যাক্রেডিটেশন) কাউন্সিল আইন, ২০১৭ অনুযায়ী এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়।

আইন অনুযায়ী কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অভিস্বীকৃতি (অ্যাক্রেডিটেশন) কাউন্সিল আইন, ২০১৭ এর ৪ ধারায় এ বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করিবে।’

যদিও কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার সময় কোনো ধরনের প্রজ্ঞাপনই জারি করা হয়নি। সম্প্রতি বিষয়টি নজরে এলে গত রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-১-এর উপসচিব আ ন ম তরিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৭-এর ধারা ৪(১)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার কর্তৃক ৯ আগস্ট ২০১৮ থেকে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করা হলো। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হলো।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল আইনেই বলা হয়েছে তা অবিলম্বে কার্যকর হবে। আইনে প্রজ্ঞাপন জারির কথাও বলা হয়েছে। যে কারণেই হোক তখন সেটি শুরুতে করা হয়নি। এখন প্রজ্ঞাপন জারি করে তা পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে।

অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের পথচলার প্রতিটি ধাপই চলছে ধীরগতিতে। আইনের খসড়া প্রণয়ন থেকে শুরু করে সংসদে পাস হতেই সময় লেগেছে ছয় বছরেরও বেশি। আইন পাসের পর চেয়ারম্যান নিয়োগ দিতেই লেগেছে প্রায় দেড় বছর। এমনকি এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি অ্যাক্রেডিট করার মানদণ্ড।

সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন বলেন, আদেশ জারির বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের কাজ। দেরি হওয়ার বিষয়ে তারা ভালো বলতে পারবেন। তবে আমি যতদূর শুনেছি, অর্গানোগ্রাম অনুমোদন বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার আদেশের কপি চাওয়া হলে বিষয়টি সামনে আসে। তাই সম্প্রতি এ আদেশ জারি করা হয়েছে।