প্রকৌশল গুচ্ছে এবার নেতৃত্ব দেবে কুয়েট, নতুন কমিটি বসবে মার্চে

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) দ্বিতীয়বারের মতো ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষেও সমন্বিতভাবে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা নেবে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত শিক্ষাবর্ষ থেকে এই তিন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বানানের আদ্যক্ষর (CUET-KUET-RUET) দিয়ে পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মনোনীত হবেন। সে অনুযায়ী, এবার ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান হবেন কুয়েট থেকে। তবে ভর্তি পরীক্ষা তিন বিশ্ববিদ্যালয়েই অনুষ্ঠিত হবে।

সমন্বিত ভর্তি কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এই তিন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম প্রায় শেষের দিকে। আগামী ৩ মার্চ থেকে এই বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হবে। আর ওইদিনই ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সব কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করবে ভর্তি কমিটি। এরপর ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হবে।

তথ্য মতে, ইংরেজি বানানের আদ্যক্ষর ‘C’ থাকায় প্রথমবার ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে এই ভর্তি পরীক্ষার নেতৃত্বে দেয় চুয়েট। সেবার তিন প্রকৌশল সমন্বিত ভর্তি কমিটির (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) সভাপতি মনোনীত হয়েছিলেন চুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম।

এদিকে, আগামী মাসের শুরুতে এই নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব শেষ করবেন। এরপর ইংরেজি বানানের আদ্যক্ষর অনুয়ায়ী, কুয়েট থেকে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কমিটির সভাপতি মনোনীত হবেন। এই কমিটি হবে ১৩ সদস্যের। সভাপতি একজন বাদে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন করে সদস্য থাকবেন। এ মাসের শেষে কিংবা আগামী মাসের শুরুতে নতুন কমিটি গঠন করার পর ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন এবং এ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে প্রথম সপ্তাহে বসবে নতুন কমিটি।

জানতে চাইলে তিন প্রকৌশল সমন্বিত ভর্তি কমিটির (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) সভাপতি ও চুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আগামী ৩ মার্চ থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হবে। সেজন্য ৩ তারিখেই ওই বর্ষের কার্যক্রম আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করবো। তাই ধরে নিচ্ছি, নতুন কমিটি মার্চের প্রথম সপ্তাহে হয়ে যাবে; তারপর তারা দ্রুতই বসে দিনক্ষণ নির্ধারণ করবে। যেহেতু পরীক্ষা তো নিতেই হবে। আশা করছি, মার্চের প্রথম সপ্তাহের দিকে নতুন কমিটি বসে কোন একটি সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি আরও বলেন, আমি গতবারের (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) সভাপতি ছিলাম। এবার কুয়েট থেকে সভাপতি হবে। আর ১৩ সদস্যের একটি কমিটি হবে। তিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারজন করে আর বাকি একজন সভাপতি থাকবেন।

তথ্যমতে, করোনার কারণে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ২০২১ সালের এইচএসসির গণ্ডি পেরোনো শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা ওই সংক্ষিপ্ত কারিকুলামের মধ্যে রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা যে সিলেবাসে হয়েছে, আমাদের মতামত হল, ঠিক সেই সিলেবাসের উপর এই ভর্তি পরীক্ষাগুলো হওয়া যৌক্তিক এবং সেটিই সঠিক। কাজেই এর বাইরে আমরা মনে করি না যে, অন্য কেউ করবেন। যদি কেউ করতে চান, আমরা তাদেরকে অনুরোধ করব।

শিক্ষামন্ত্রীর এই অনুরোধে ইতোমধ্যে সাড়া দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। তারা সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, তিন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ও কি এবার সংক্ষিপ্ত কারিকুলামের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষা নেবে?

জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, স্ব-স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল থেকে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে নতুন ভর্তি কমিটি তা বাস্তবায়ন করবে। আমরা গতবার যেটি করেছিলাম।

“নতুন যে কমিটি গঠিত হবে তারা বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত নেবে। এর আগে স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কাউন্সিল থেকে এ বিষয়ে অনুমোদন নেবে। আমাদের সবকিছু একাডেমিক কাউন্সিল থেকে আগে অনুমোদিত হয়। পরীক্ষা প্রিলি হবে নাকি রিটেন হবে; সিলেবাস সংক্ষিপ্ত নাকি পুরো হবে; সাবজেক্ট কি হবে ইত্যাদি।”

তিনি আরও বলেন, এজন্য আগে কেউ বলতে পারবে না পরীক্ষার সিলেবাস সংক্ষিপ্ত নাকি পুরো হবে। এই কমিটি একটি প্রস্তাব দিলে তিনটি বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কাউন্সিল সভায় বসে আলোচনা হবে। এরপর সিদ্ধান্ত হবে কোন সিলেবাসে পরীক্ষা হবে। তাই এখন হবে না সেটা বলা যাবে না আর হবে সেটাও বলা যাবে না। আমাদের কারও এখতিয়ার নেই সেই কথা বলার। সভায় সিদ্ধান্ত হলে তারপর সংক্ষিপ্ত নাকি পুরো ওই সিলেবাসেই ভর্তি পরীক্ষা হবে।”

জানা যায়, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে প্রথমবার ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) চার প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট-চুয়েট-কুয়েট ও রুয়েট) সমন্বিতভাবে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার আয়োজনের উদ্যোগ নেয়।

পরবর্তীতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে এই ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইংরেজি বানানের আদ্যক্ষর দিয়ে পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান করার প্রস্তাব দেয় বুয়েট ব্যতীত অন্য তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা। এছাড়া, ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র চার বিশ্ববিদ্যালয়ে করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন তারা।

তবে বুয়েট এই প্রস্তাব না গ্রহণ না করায় ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে তিন বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি গুচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে বুয়েটের প্রস্তাব ছিল, প্রতি বছর কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান বুয়েট থেকে করতে হবে এবং পরীক্ষার কেন্দ্র শুধুমাত্র বুয়েটেই হবে। তবে কমিটিতে অন্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অংশীদারিত্ব থাকবে। প্রশ্নপত্র কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটি প্রণয়ন করবে। এর ফলে বুয়েট সমন্বিতভাবে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় না এসে আগের নিয়মেই ভর্তির পরীক্ষার আয়োজন করে।