পেছাচ্ছে বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা

করোনা ভাইরাস মহামারীর উদ্ভুত পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। লকডাউন শেষ হওয়ার পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে আলোচনা করে পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করবে বুয়েট।

তথ্যমতে, গত ১৫ এপ্রিল থেকে বুয়েটের ভর্তি আবেদন শুরু হয়েছে। গত ২৪ এপ্রিল আবেদনের সময়সীমা আগামী ৩ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বুয়েট। এবার দুই ধাপে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে একাডেমিক কাউন্সিল। পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩১ মে ও ১ জুন প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। আর চূড়ান্ত পরীক্ষা ১০ জুন নিতে চেয়েছিল বুয়েট। তবে চলমান পরিস্থিতির কারণে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার চিন্তাভাবনা করছে কর্তৃপক্ষ।

একাডেমিক কাউন্সিলের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকে পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো কাজই করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। লকডাউন থাকায় বাসা থেকেই জরুরি কাজ সাড়লেও পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজ করতে পারছে না তারা।

সূত্র জানায়, ভর্তি পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে নিয়মিত বৈঠকও করতে পারছে না একাডেমিক কাউন্সিল। আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজ শুরু করবে পরীক্ষা আয়োজক কমিটি। যদিও এর আগের ভর্তি পরীক্ষাগুলোর সময় আবেদন চলাকালীনই পরীক্ষার যাবতীয় কাজ সেরে রাখা হত। তবে এবার সেটি সম্ভব হয়নি। এই অবস্থায় পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়ার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বুয়েট উপাচার্য

জানতে চাইলে বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক সত্য প্রসাদ মজুমদার শনিবার (১ মে) দুপুরে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগের সিদ্ধান্ত থেকে আমাদের সরে আসা ছাড়া বিকল্প নেই। ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

করোনার কারণে ঢাবিও তাদের ভর্তি পরীক্ষা পিছিয়েছে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, আগামী ৫ মে বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের এক্সিকিউটিভ কমিটির মিটিং আছে। সেখানে আমরা কবে পরীক্ষা নেয়া যায় এই বিষয়ে আলোচনা করব। সবার সাথে আলোচনার পর আমাদের একাডেমিক কাউন্সিলে পরীক্ষার নতুন তারিখ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

কবে নাগাদ পরীক্ষা নেবেন জানতে চাইলে অধ্যাপক সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেন, আমরা হুট করে কোনো তারিখ ঘোষণা করতে চাই না। কেননা এখন একটি তারিখ দিলাম, কিন্তু করোনা পরিস্থিতি খারাপ থাকলে সেই তারিখে পরীক্ষা আয়োজন করতে পারলাম না, তখন আবার আমাদের সময় পরিবর্তন করতে হবে। সেজন্য আমরা একটু অপেক্ষা করতে চাই। সবার সাথে আলোচনা করে একটা নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে। যেন সেই তারিখে আমরা পরীক্ষা নিতে পারি।

বুয়েট উপাচার্য আরও বলেন, লকডাউন শেষ হওয়ার পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং ডাকা হবে। সেখানে সবকিছু চূড়ান্ত করে আপনাদের জানিয়ে দেব। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হবে না বলেও জানান তিনি।