পিছিয়ে থেকেও ‘ঐতিহাসিক উদ্দীপনা’ দেখছেন ট্রাম্প!

মহামারি করোনায় বদলে গেছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। এর মধ্যেই স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টায় বিশ্ববাসী। এদিকে দিন যত ঘনিয়ে আসছে, এগিয়ে আসছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের উপর প্রভাব ফেলেছে কোভিড-১৯। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির অবস্থা বেশ নড়বড়ে। করোনায় সব কিছু ওলটপালট করে দিয়েছে হিসেব নিকেশ। বেকার হয়ে পড়েছেন বহু মার্কিনি। তবে সংকট উত্তরণে বেশ শক্ত অবস্থানে ট্রাম্প।

এ অবস্থায় সর্বত্রই ঘুরপাক খাচ্ছে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি আবারো মসনদে বসতে পারবেন কিনা? নাকি এ যাত্রায় হোয়াইট হাউস ছাড়তে হবে আলোচিত-সমালোচিত ট্রাম্পকে? সংকটের মারাত্মক প্রভাবের মাঝেও সব জনমত সমীক্ষায় প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের থেকে বেশ পিছিয়ে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ৷ কিন্তু এমন জনমতে এখনই বলা যাচ্ছে না কার দিকে তীর ছুঁড়বেন দেশটির নাগরিক।

কে কিভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন?
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে আপাতত এগিয়ে জো বাইডেন। তরুণদের কথা মাথায় রেখে তিনি ডিজিটাল মাধ্যমকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন। সেই সাথে ট্রাম্পের নানা ভুল পদক্ষেপের তুলোধুনো করতে ভুলছে না এই ডেমোক্র্যোট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী। প্রায় সময় তিনি ভিডিও বার্তায় কৌশলগতভাবে চালাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণা। করোনায় ভিড়ে ঠাসা জনসভার ঝুঁকি এড়াতে বাইডেন শুরু থেকেই ডিজিটাল মাধ্যমকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছেন ৷

এদিকে, ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনা ভাইরাসের পরোয়া না করে ওশিংটনসহ বেশ কয়েকটি জনসভা আয়োজন করলেও পরিসংখ্যানে খুবই একটা ভালো অবস্থানে নেই। করোনার মধ্যেই সংক্রমণ ছড়ানো থেকে শুরু করে যথেষ্ট ভিড় না হওয়ায় জনসভাগুলিকে ঘিরে রয়েছে নানা বিতর্ক।

যেসব রাজ্যে তিনি ২০১৬ সালে জয়লাভ করেছিলেন, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে তিনি পিছিয়ে পড়েছেন, এমন খবর ঘুরপাক খাচ্ছে বেশ কয়েকটি পশ্চিমা গণমাধ্যমে। তাই আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার উন্মুক্ত জনসভা থেকে কিছুটা পিছু হটে ডিজিটাল প্রচারে মনোযোগ দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

আরেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্স ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে অনেক আগেই নির্বাচনি প্রচারণা থেকে সড়ে দাঁড়িয়েছেন। এতে জো বাইডেন এবং ট্রাম্পের পথ অনেকটা পরিষ্কার হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে বার্নি সড়ে দাড়ালেও আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন জনপ্রিয় র‌্যাপ তারকা কেইন ওয়েস্ট। দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক হিসেবে নিজেকে জাহিরের পর এ ঘোষণায় নি:সন্দেহে দেশটির রাজনীতিতে বেশ উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। তবে নির্বাচনের মাত্র চার মাস আগে এ ধরনের ঘোষণা দেয়ায় জয়ের বিষয়ে ওয়েস্ট কতটুকু প্রভাব রাখতে পারবেন তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।

কি বলছেন ট্রাম্প?
জনমত সমীক্ষায় খারাপ ফলাফল সত্ত্বেও দমে যাবার পাত্র নন ট্রাম্প। সম্প্রতি এক টুইট বার্তায় তিনি দাবি করেন যে অনেকের মতে তাঁর প্রচারে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তা আমেরিকার ইতিহাসে দেখা যায়নি। এমনকি তাঁর মতে, ২০১৬ সালে তাঁর নিজের প্রচারকেও ম্লান করে দিচ্ছে ২০২০ সালের প্রচারণা।

নির্বাচন কবে?
আগামী তেশোরা নভেম্বর ২০২০ মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার কথা। তবে এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরামর্শ দেন, করোনা আর অর্থনেতিক সংকটের কারণে নির্বাচন পিছিয়ে দেয়া যায় কিনা। যদিও তার নিজ দল রিপাবলিকানেই তা প্রত্যাখাত হয়েছে। তার এমন পরামর্শ নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছে নানা মহলে।

এদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকার কারণেই ২০২০ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পিছিয়ে দিতে কৌশল খুঁজছেন ট্রাম্প।