পাবলিক পরীক্ষার বিকল্প মূল্যায়ন নিয়ে টেলিভিশনের রিপোর্ট ভুয়া : চেয়ারম্যান

করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হলে বিকল্প মূল্যায়নের চিন্তা করছে সরকার। শিক্ষার্থীদের কিভাবে বিকল্প মূল্যায়ন করা হবে তা অভিভাবকদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিকল্প পদ্ধতিতে কিভাবে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে তা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করছে শিক্ষা প্রশাসন। তবে, বিকল্প পদ্ধতিতে মূল্যায়নে নম্বর বিভাজন নিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি শিক্ষা প্রশাসন। এর জন্য একটি পরামর্শক কমিটি গঠনের পর্যায়ে রয়েছে, সেই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কাজ হবে।

এদিকে, কয়েকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়নে নম্বর বিভাজন কিভাবে হবে সে তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। শিক্ষা প্রশাসনের কর্তারা বলছেন, বিকল্প পদ্ধতি এসএসসি এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতির নম্বর বিভাজন নিয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। টেলিভিশনে বিকল্প পদ্ধতি ‍মূল্যায়ন নিয়ে করা রিপোর্টগুলো একেবাসে ভুয়া, মনগড়া। তাই, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ওইসব প্রতিবেদনে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাবকমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বুধবার সকালে বলেন, এসএসসি এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নম্বর বিভাজন নিয়ে এখনো কোন সিদ্ধন্ত হয়নি। আমরা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়ার চেষ্টা করবো। যদি পরীক্ষা না নেয়া যায় তাহলে বিকল্প চিন্তাভাবনা করা হবে। তবে, শিক্ষার্থীদের নম্বর বিভাজন নিয়ে আমরা এখনো ভাবছি না। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

কিছু কিছু টিভি চ্যানেল বিকল্প পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের আগের পাবলিক পরীক্ষা ও অ্যাসাইনমেন্টের নম্বর উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে জানালে বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, এ বিষয়ে আমরা চিন্তাভাবনাই করি নি। পরীক্ষা না নেয়া হলে কি কি সূচকে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে সে বিষয়টিও নির্ধারণ হয়নি। তবে, পরীক্ষা না নেয়া হলে অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নের একটি সূচক হতে পারে। বিভ্রান্তিকর তথ্য দেখে উদ্বিগ্ন না হতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান রইলো।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, তারা কিসের ভিত্তিতে এ ধরনের সংবাদ প্রচার করেছেন করেছে তা আমাদের জানা নেই। তবে মূল্যায়ন পদ্ধতির বিষয়ে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। আমরা শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা নেয়ার চেষ্টা করবো। তবে যদি পরীক্ষা না নেয়া যায় তাহলে কোন কোন পদ্ধতিতে বিকল্প মূল্যায়ন করা যায় সেটি ঠিক করা হবে। পরামর্শক কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী একটি খসড়া তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো। মন্ত্রণালয় সেটি যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত করবে।

এদিকে এসএসসি এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়নের নম্বর বিভাজনের কোন সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম আমিরুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার্থীদের নম্বর বিভাজন নিয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। কেউ এ বিষয়ে তথ্য দিলে তা মনগড়া।

করোনা পরিস্থিতিতে গত ১৫ মাসের বেশি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। গতবছরের এইচএসসি, জেএসসি ও প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা হয়নি। এ পরিস্থিতিতে ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়েও শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও শিক্ষা প্রশাসনের কর্তারা বলছেন, পরীক্ষা নেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। পরীক্ষা না নেয়া গেলে পরীক্ষার্থীদের বিকল্প পদ্ধতিতে মূল্যায়নের চিন্তাভাবনা আছে।