পাপুলের স্ত্রী-শ্যালিকাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ, সবই ষড়যন্ত্র দাবি স্ত্রীর

কুয়েতে আটক লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহীদুল ইসলাম পাপুলের দুর্নীতি তদন্তে স্ত্রী ও শ্যালিকাকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। স্ত্রী দাবি করেছেন, পাপুলের বিরুদ্ধে যা হচ্ছে সবই ষড়যন্ত্র। দেশের আদালতে এখনো কোন বিচার শুরু না হলেও, পাপুলের বিরুদ্ধে ডজনখানেকের বেশি অভিযোগ মিথ্যা বলেও দাবি করেন তিনি।

২৫ জুন কুয়েতে মানব ও অবৈধ মুদ্রা পাচারের অভিযোগে আটক বাংলাদেশের সাংসদ শহীদুল ইসলাম পাপুলকে ঘুষ দেওয়া, মানব ও অবৈধ মুদ্রা পাচার এবং রেসিডেন্ট পারমিট বিক্রির অভিযোগে ২১ দিন কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন কুয়েত আদালত।

এছাড়া, তার বিরুদ্ধে কুয়েতের মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অ্যাকাউন্টে পাঁচ মিলিয়ন কুয়েতি দিনার রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। যা বাংলাদেশি টাকায় ১৩৭ কোটি ৮৮ লাখ ৮৩ টাকা।

৬ জুন কুয়েত সিটির মুশরিফে তার বাসা থেকে আটকের পর, কাজী শহিদকে নিয়ে ফলাও করে খবর ছাপে দেশটির গণমাধ্যম। তাকে নিয়ে আলোচনাও হয় সেই দেশের পার্লামেন্টে। কুয়েতের রাজনীতিবিদেরা ভিসা পাচারের নামে মানব পাচারের বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হওয়ায় দেশটির উপ প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস আল সালেহ টুইটে পাপুলকে সবচেয়ে বড় মানব পাচার চক্রের হোতা হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন।

শুধু কুয়েতে নয়, দেশেও তার বিরুদ্ধে মানবপাচার ও মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। রয়েছে পরিবারের নামে-বেনামে ব্যাংকের ঋণ নেয়া, সম্পদ ভোগ, নিজের ও স্ত্রীর নামে শেয়ার কিনে ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার অভিযোগ। যার আড়ালে ২০১৬ সাল থেকে হাজার কোটি পাচারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

গত ১২ জুলাই কাজী পাপুলের স্ত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম এবং শ্যালিকা জেসমিন প্রধানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেয় দুদক। দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দীন স্বাক্ষরিত ওই তলবি নোটিশে তাদেরকে ২২ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়।

বুধবার (২২ জুলাই) দুদকে হাজির হয়ে তিনি জানান, ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতেই এই অভিযোগ। কুয়েতের আদালতে অভিযোগও ষড়যন্ত্রের অংশ বলেও দাবি তার।

ইংরেজি দৈনিক আরব টাইমস জানিয়েছে, পাপুল ও তার কোম্পানির অ্যাকাউন্টে ৫ মিলিয়ন কুয়েতি দিনার রয়েছে। যার মধ্যে ৩ মিলিয়ন দিনার কোম্পানির মূলধন। যা ফ্রিজ করেছেন দেশটির আইনী সংস্থা।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কমিশন পাপুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থপাচার ও শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর দুদকের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়ালকে অনুসন্ধান তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দীনকে কমিশন অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়। অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় ১৭ জুন দুদক পাপুলের স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জানিয়ে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) চিঠি দেয়। এরপর গত ২২ জুন পাপুল, স্ত্রী সেলিনা, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিনের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দেশি-বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা সব ব্যাংক হিসাব স্থগিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দেয় দুদক।

সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কুয়েত গিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন পাপুল। ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন লক্ষ্মীপুরের আসনটিতে। ওই নির্বাচনে ওই আসনটি আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু জাতীয় পার্টির প্রার্থী শেষ মুহূর্তে ভোট থেকে সরে দাঁড়ালে বিএনপিকে ঠেকাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ পাপুলের পক্ষে কাজ করেছিল। পাপুল নিজে এমপি হওয়ার পর স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কোটায় পাওয়া সংরক্ষিত একটি আসনে তার স্ত্রী সেলিনাকে এমপি করে আনেন।

আরো পড়ুন:
পাপুলের স্ত্রী-শ্যালিকা দুদকে হাজির

পাপুল কাণ্ডে এবার কুয়েতের সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতার

কুয়েতে কর্মী নিতে সাড়ে ৫৭ কোটি টাকা ঘুষ দেন সাংসদ পাপুল

এইচএসসির আগেই অনার্স পাস এমপি পাপুল

এমপি পাপুলের ১৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ করার আবেদন