পাকিস্তানে লকডাউন করার আহ্বান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

পাকিস্তানে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার দেশটিতে অন্তবর্তী লকডাউন ব্যবস্থা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির এক কর্মকর্তা বলেন, দেশটিতে বিধিনিষেধ শিথিল করার পর করোনার সংক্রমণ বাড়ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, মার্চে পাকিস্তানে সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো লকডাউনের পথে হাঁটেননি। তিনি বলেন, লকডাউন করার সামর্থ্য তাঁদের নেই। এর পরিবর্তে পাকিস্তানের চারটি প্রদেশে জোড়াতালির বন্ধ ঘোষণা করা হয়। গত সপ্তাহে ইমরান খান সে বিধিনিষেধও তুলে নেওয়ার কথা বলেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সংক্রমণের হারের দিক থেকে সবাইকে টপকে যাওয়ার পর পাকিস্তানে লকডাউন করার সিদ্ধান্ত এল।

দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা গতকাল বলেন, তাঁরা দেশটিতে ১ লাখ ৮ হাজার ৩১৭ জন সংক্রমিত রোগী শনাক্ত করেছেন এবং ২ হাজার ১৭২ জন মারা গেছেন। দেশটিতে পরীক্ষার হার সীমিত। পরীক্ষা বেশি হলে সংক্রমণের হার আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাঞ্জাবের প্রাদেশিক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়াসমিন রশিদকে এক চিঠিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ‘আজ পর্যন্ত লকডাউন তুলে নেওয়ার কোনো প্রয়োজনীয় শর্ত পাকিস্তান পূরণ করেনি।’ চিঠিতে বলা হয়, মানুষ এখনো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য আচরণগত পরিবর্তন ও বারবার হাত ধোয়ার মতো অভ্যাস রপ্ত করেনি। তাই নির্ধারিত অঞ্চলগুলোয় অন্তবর্তী লকডাউনের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্তর্বতী লকডাউনের চক্রে দুই সপ্তাহ খোলা ও দুই সপ্তাহ বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানে মোট পরীক্ষায় ২৫ শতাংশই পজিটিভ বলে শনাক্ত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে সংক্রমণের উচ্চমাত্রা দেখা গেছে। দেশটির হাসপাতালগুলোয় রোগী রাখার সক্ষমতা কম বলে অনেক রোগীকে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।

গতকাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোম আধানোম গ্রেব্রেয়াসুস বলেন, সোমবার ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে যে ১ লাখ ৩৬ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছেন, তা এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের ঘটনা। এর বেশির ভাগই দক্ষিণ এশিয়া ও আমেরিকার মানুষ।