পলিটেকনিকে ভর্তির নতুন নিয়ম, আন্দোলনের হুমকি প্রকৌশলীদের

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তিতে কোনো বয়সের সীমাবদ্ধতা থাকবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ভর্তির হার বৃদ্ধির এবং বিদেশফেরত দক্ষ কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতেই এ সিদ্ধান্ত। তবে এতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত পলিটেকনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে যাবে।

জানা গেছে, ডিপ্লোমায় ভর্তির ক্ষেত্রে বয়সসীমা ছাড়াও ছেলেদের ভর্তির ক্ষেত্রে যোগ্যতা জিপিএ ৩.৫ থেকে কমিয়ে ২.৫ এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে জিপিএ ৩ থেকে কমিয়ে ২.২৫ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি ফি এক হাজার ৮২৫ টাকা থেকে কমিয়ে এক হাজার ৯০ টাকা করা হয়েছে।

কারিগরি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তে এসএসসি পাস উত্তীর্ণরা পলিটেকনিকে ভর্তির ক্ষেত্রে আগ্রহ হারাবে। অনীহা দেখাবে মেধাবীরাও। তারা মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে রাজনীতি করতে কিছু যুবক ভর্তি হয়ে অপরাজনীতি করবে। ক্যাম্পাসে হত্যার রাজনীতি শুরু হবে বলে দাবি তাদের। পলিটেকনিকে আর মেধাবীরা ভর্তি হবে না বলেও মনে করেন তারা।

এ সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বলেছে, কারিগরি শিক্ষা গুরুত্বহীন করে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতেই এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। ভর্তির ক্ষেত্রে পূর্বের বিধান অক্ষুণ্ন রাখার দাবি জানিয়েছে তারা। সংগঠনটির সভাপতি এ কে এম এ হামিদের সভাপতিত্বে এক ভার্চুয়াল সভায় এ দাবি জানানো হয়। এসময় আন্দোলনের হুমকি দিয়ে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত বাতিলে প্রয়োজনে ছাত্র, শিক্ষক এবং ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন ।

এ ব্যাপারে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি শাহজাহান আলম সাজু বলেন, অনেক পলিটেকনিকে অধ্যক্ষ আছেন যাদের বয়স ৪০ বা ৪৫। সেখানে তাদের চেয়ে বেশি বয়সের শিক্ষার্থী যদি ভর্তি হলে সেটা কতটুকু ভালো হবে। তিনি বলেন, যে মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয় সেখানে আমিও ছিলাম, অনেকেই আপত্তি জানিয়েছিল।

টেকনিক্যাল এডুকেশন কনসোর্টিয়াম, বাংলাদেশ (টেকবিডি)-এর সভাপতি প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ বলেন, একজন এসএসসি শিক্ষার্থীর সঙ্গে যখন অধিক বয়সের একজন থাকবে তখন অসমতা তৈরি হবে। তারা নবীনদের ওপর অত্যাচার করবে। শিক্ষার পরিবেশ কলুষিত করবে। অনেকে ভর্তি হয়ে অপরাজনীতি করবে, হল দখল করবে। এমন পরিবেশে প্রকৃত শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে আসবে না বলে মনে করেন তিনি।

বরিশালের ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান চৌধুরী বলেন, ভর্তির হার বাড়ানোর জন্য কী করতে হবে তা নিয়ে কোনো জরিপ বা গবেষণা করা হয়নি। ফলে একেক সময় একেক ধরনের নিয়ম-নীতি নির্ধারণ করা হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে পলিটেকনিক কলেজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাবে বলে তিনি মনে করেন