পরিকল্পনা আছে, শিক্ষার্থীদের দেড় বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেব: শিক্ষামন্ত্রী

করোনাভাইরাসের কারণে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে রয়েছে একাধিক শিক্ষাবর্ষ। শিক্ষার্থীদের এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ভার্চুয়ালি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, করোনা সংক্রমণের হার কিছুটা কমে এলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে। বিগত দেড় বছর ধরে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চাই না বলে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছি। এজন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে টেলিভিশনে ক্লাস সম্প্রচার, অনলাইনে ক্লাস ও অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ করা হচ্ছে। বিকল্প কার্যক্রমে যারা যুক্ত হতে পারেনি তাদের নিয়েও ভাবা হচ্ছে। এজন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক ধাপে বাড়ানোর পর আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত এ ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত দেড় বছরের মধ্যে যাদের স্কুলে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল কিন্তু হতে পারেনি, তাদের জন্যও আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। কীভাবে এ ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষার ক্ষেত্রে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, আইসিটি ও ধর্ম আবশ্যিক বিষয়ের মূল্যায়নে আগে দেওয়া জেএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ওপর মূল্যায়ন করা হবে। ঐচ্ছিক বিষয়ের ওপর তৈরি করা সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুযায়ী আগামী ১৮ জুলাই থেকে পরবর্তী ১২ সপ্তাহে ২৪টি অ্যাসাইনমেন্ট করতে হবে। প্রতি সপ্তাহে দুটি করে অ্যাসাইনমেন্ট করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমা দিতে হবে।

‘‘অন্যদিকে এইচএসসির জন্য সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের ওপর ২৫ জুলাই থেকে ১৫ সপ্তাহে ৩০টি অ্যাসাইনমেন্ট করতে হবে। তাদেরও প্রতি সপ্তাহে দুটি করে পাঁচটি পত্রের ওপর ৩০টি অ্যাসাইনমেন্ট করে কলেজে জমা দিবে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ঐচ্ছিক বিষয়গুলোর সংক্ষিপ্ত আকারে পরীক্ষা নেওয়া হবে।’’

তিনি বলেন, যেহেতু শিক্ষার্থীরা আবশ্যিক বিষয় আগের স্তরে পড়ে এসেছেন। ঐচ্ছিক বিষয়গুলো তাদের পরবর্তী ক্লাসে প্রয়োজন হবে। এজন্য পরীক্ষার্থীদের শিখন জ্ঞান অর্জন করছে কি না তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এজন্য সব শিক্ষার্থীকে ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।