পদত্যাগ করলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

তীব্র বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে জনপ্রশাসন সচিবের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, ডা. আবুল কালাম আজাদ পদত্যাগ করেছেন। তবে তিনি আমাকে বিষয়টি জানাননি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই নানা কারণেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে ব্যর্থতার পাশাপাশি কেনাকাটা ও নিয়োগে সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি সামাল দিতে না পারাসহ নানা অব্যবস্থাপনার দায়ে ডা. আজাদকে নিয়ে সরকারি মহলসহ দেশব্যাপী সমালোচনা চলছিলো। এর মধ্যেই আগামী বছরের ১৫ এপ্রিল মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন ডা. আজাদ।

গত জুন মাসের ১৮ তারিখে আবুল কালাম আজাদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলেছিলেন, ‘দেশে করোনা পরিস্থিতি দুই থেকে তিন বছর বা তার চেয়েও বেশিদিন স্থায়ী হবে।’ তার এ বক্তব্যের পর জনমনে উদ্বেগ দেখা দেয়। দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা অবশ্য মহাপরিচালকের এই বক্তব্যকে ‘তার নিজের বক্তব্য’ এবং এই বক্তব্যের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছিলেন। আর করোনা নিয়ে ডিজির এ বক্তব্যকে কাণ্ডজ্ঞানহীন উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘দায়িত্বশীল পদে থেকে কারও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য রাখা মোটেও সমীচীন নয়।’

২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের পদে রয়েছেন ডা. আজাদ। চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চুক্তিতে নিয়োজিত ছিলেন তিনি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তাকে চুক্তিতে নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করা হয়েছিল।

১৯৮৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করা আবুল কালাম আজাদ ২০০১ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। ১৯৯০ সালে তৎকালীন আইপিজিএমআর (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে এমফিল ডিগ্রি নেন তিনি।

আবুল কালাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগের পরিচালক এবং অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) দায়িত্বেও ছিলেন।