নিউজিল্যান্ডের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ টাইগারদের

তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটে-বলে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের দেওয়া মামুলি ১৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড।

রানের পুঁজি অল্প হওয়ায় কিউই ব্যাটসম্যানদের আটকানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায় মুস্তাফিজুর রহমান-তাসকিন আহমেদদের। সেই সুযোগে শুরু থেকে ব্যাটে ঝড় তুলে দলের জয়টা একেবারে সহজ করে দিয়ে যান কিউই ওপেনার মার্টিন গাপটিল। তাসকিনের বলে কট বিহাইন্ড হওয়ার আগে ১৯ বলে ৩ চার ও ৪ ছয়ে ৩৮ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

গাপটিলের বিদায়ের পর ওয়ানডেতে অভিষেক হওয়া ডেভন কনওয়েকে নিয়ে দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান ওপেনার হেনরি নিকলস। ব্যক্তিগত ২৭ রানে হাসান মাহমুদের বলে মাহমুদউল্লাহর হাতে বন্দী হয়ে কনওয়ে ফিরলে আরেক অভিষিক্ত উইল ইয়ংকে (১১) নিয়ে বাকি কাজটা সারেন নিকলস। ৫৩ বলে ৬ চারে ৪৯ রান করে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

ডানেডিনে কিউইদের বিপক্ষে দেড়শ’ রানও করতে পারলো না বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। ৪১ দশমিক ৫ ওভারে ১৩১ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস। সেই ছন্নছাড়া ব্যাটিং। নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে যে এখনও আগের বাংলাদেশই আছে, তামিমরা আরেকবার প্রমাণ দিলেন।

ছক্কা মেরে রানের খাতা খুলেছিলেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ভালো করার ইঙ্গিত দিলেও বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি তিনি। দলীয় ১৯ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ১৩ রানেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ওয়ানডাউনে নামা ফর্মহীনে থাকা সৌম্য সরকারও ফেরেন শূন্য রানে।

এরপর লিটন দাশকে নিয়ে ইনিংস লম্বা করতে চেয়েছিলেন মুশফিকুর রহীম। কিন্তু ১৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে দলীয় ৪২ রানের মাথায় জেমস নিশামের বলে ট্রেন্ট বোল্টের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরতে হয় লিটনকে। আউট হওয়ার আগে ৩৬ বলে একটি চারে ১৯ রান করেন লিটন।

অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম এবার দলের হাল ধরলে কিছুটা স্বস্তি ফেরে টাইগার শিবিরে। প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে দলকে সম্মানজনক সংগ্রহের পথেই রেখেছিলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। তবে এদিন নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি মুশি। দলীয় ৬৯ রানের মাথায় ৪৯ বলে ২৩ রানের ইনিংস খেলে জেমস নিশামের বলে মার্টিন গাপটিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুশি।

ভাগ্যবিড়ম্বনায় মোহাম্মদ মিথুনকেও মাঠ ছাড়তে হয় ৯ রান করেই। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাট থেকে আসা বল স্ট্যাম্পে লাগার আগে বোলারের স্পর্শে আউট হতে হয় মিথুনকে।

আর ১০ বল খেলে ১ রান করে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর অভিষেক হওয়া মেহেদী হাসান কিছুটা হুঙ্কারের ইঙ্গিত দিলেও বেশিক্ষণ ব্যাট করতে পারেননি। মিচেল স্যান্টনারকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে হেনরি নিকোলসের হাতে বল তুলে দিয়ে ২০ বলে ১৪ রানে ফেরেন মেহেদি হাসান। আর তাতেই মাত্র ৯৮ রানে ৭ম উইকেটের পতন ঘটে টাইগারদের।

এরপর পেসার তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘ সময়ের জুটি গড়েন রিয়াদ। তবে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে’র প্রথম বলে ম্যাট হেনরিকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিচেল স্যান্টনারের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন রিয়াদ। আর তাতেই বিপদের মুহূর্তে ৫৪ বলে ২৭ রানের ইনিংসের খেলে ফিরতে হয় তাকে।

এরপর আর খুব বেশি সময় দেয়নি কিউই বোলাররা। ট্রেন্ট বোল্ট দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৪২তম ওভারের তৃতীয় বলে হাসান মাহমুদকে বোল্ড করেন আর ৫ম বলে তাককিন আহমেদ স্যান্টনারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এর আগে ৩২ বলে ১০ রানের ইনিংস খেলেন তাসকিন। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে তার জুটিটাই টাইগারদের ইনিংসের সবচেয়ে বড় জুটি।

কিউইদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট শিকার করেন ট্রেন্ট বোল্ট। ৮.৫ ওভার বল করে মাত্র ২৭ রানের বিনিময়ে তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, হাসান মাহমুদ এবং তাসকিনের উইকেট নেন তিনি।