নভেম্বরে না খুললে প্রাথমিকের সব শ্রেণিতে অটো পাস

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে আগামী নভেম্বরেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা না যায়, তাহলে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন ছাড়াই পরবর্তী ক্লাসে তুলে দেয়া হবে। কারণ ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রম শেষ হবে। আর এই সময়ে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসও শেষ করা সম্ভব হবে না। সে কারণে মূল্যায়নও সম্ভব নয়। ফলে অটো পাস ছাড়া কোনও বিকল্প থাকছে না প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, আমরা অক্টোবর ও নভেম্বরকে টার্গেট করে দুটি লেসন প্ল্যান তৈরি করেছি। যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হয়, তাহলে আমরা অক্টোবরের লেসন প্ল্যান নিয়ে কাজ করবো। সেক্ষেত্রে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা ৭৬ দিন সময় পাবো। অক্টোবরে খোলা না গেলে নভেম্বরে আমরা একটি লেসন প্ল্যান অনুমোদন করে রেখেছি। এক্ষেত্রে ১৯ ডিসেম্বরের ৪০ দিন সময় পাবো ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা করানোর জন্য।

তিনি আরও বলেন, সেটি যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে আমরা মূল্যায়নের ব্যবস্থা করতে পারবো। আর যদি স্কুল খোলা না যায় (নভেম্বরে) তাহলে প্রধানমন্ত্রী যেটি বলেছেন, আমাদের অটো পাস ছাড়া উপায় নেই।

গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, সেই ছুটি অন্তত ৩ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে বলে সরকার জানিয়েছে। তারপরও স্কুল খোলার মত পরিস্থিতি হবে কি না, সে নিশ্চিয়তা কেউ দিতে পারছে না, কারণ এখনও প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজারের মত নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে সারা দেশে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৪ অক্টোবর প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা সম্ভব হলে আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রমের জন্য সময় থাকছে মাত্র ৭৬ দিন। আর নভেম্বরের শুরুতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হলে শ্রেণি কার্যক্রমের জন্য সময় থাকছে মাত্র ৪০ দিন। এই সময়ের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সর্বশেষ দুটি লেসন প্ল্যান অনুযায়ী সিলেবাস শেষ করা সম্ভব। যদি নভেম্বরে বিদ্যালয় খোলা যায় তাহলে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে মূল্যায়ন করা যাবে। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে মূল্যায়নেরও সুযোগ থাকছে না।

আর ডিসেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হলেও খোলার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ে নিতে হবে। সেক্ষেত্রেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৫ দিন সময় লাগবে পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে। সেই হিসেবে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় থাকে মাত্র চার দিন। এ সময়ের মধ্যে এ বছরে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নও সম্ভব হবে না। তবে সব কিছুই নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর।

নভেম্বর মাসেও বিদ্যালয় খোলা না গেলে শিক্ষার্থীদের অটো পাস দেওয়া হবে কি না- আজ রবিার সাংবাদিকরা সেই প্রশ্ন করেছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের কাছে। জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অটো পাসের খবর শুনে শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনা থেকে সরে না যায়, সেজন্য এখনই কোনো ঘোষণা তারা দিচ্ছেন না।

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে এবার কেন্দ্রীয়ভাবে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা না নিয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

তবে বছরের অর্ধেক সময় যেখানে ক্লাস হয়নি, বাসায় বসে থেকে পড়ালেখাও সেভাবে হয়নি, এর মধ্যে বার্ষিক পরীক্ষা কীভাবে হবে তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে অভিভাবকদের।