নতুন প্রজন্মের অনেক শিক্ষার্থী পথভ্রষ্ট হয়ে স্বাধীনতাবিরোধীর রাজনীতিতে জড়িয়েছে

নতুন প্রজন্মের অনেক শিক্ষার্থী পথভ্রষ্ট হয়ে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ছে। বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা কীভাবে এসব অপশক্তির সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ছে, তা বোধগম্য নয়। স্বাধীনতার ইতিহাস সঠিকভাবে জানলে ও চর্চা করলে নতুন প্রজন্ম অপশক্তির কবল থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবে। দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। তাহলেই বঙ্গবন্ধুর সত্যিকারের সোনার বাংলা গড়া সম্ভব হবে।

গতকাল রোববার রাতে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আলোচনা সভায় উপাচার্য ইমদাদুল হক এসব কথা বলেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর ছাত্রত্ব অন্যায়ভাবে বাতিল করলেও তিনি মুচলেকা দেননি। পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর ছাত্রত্ব ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছিল।’

আলোচনা সভায় কোষাধ্যক্ষ কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, বঙ্গবন্ধু শিক্ষকদের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। কিন্তু অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা বঙ্গবন্ধুর সঠিক জীবনী নিয়ে আলোচনা করতে চান না। এতে শিক্ষার্থীরা বাঙালি জাতির স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানতে পারছে না। বঙ্গবন্ধুর সঠিক জীবনাদর্শ জেনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে তাঁর আদর্শ ধারণ ও লালন করে দেশ গঠনের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

দেশ পুনর্গঠনের সময় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়
বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখতেন মূলত সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে বাংলাদেশের মানুষকে মুক্ত করার জন্য। স্বাধীনতাপরবর্তী নানাবিধ সমস্যা মোকাবিলা করে বঙ্গবন্ধু যখন দেশ পুনর্গঠনের দিকে মনোনিবেশ করেন, তখনই নির্মমভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়। গতকাল জাতীয় শোক দিবসে উপলক্ষে এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান এসব কথা বলেন। ‘বঙ্গবন্ধুপরবর্তী বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নীল দল।
অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, বঙ্গবন্ধু জনগণের জন্য স্বচ্ছ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা চালু করতে চেয়েছিলেন। তাঁর সবচেয়ে বড় সফলতা ছিল স্বাধীনতার নয় মাসে পরিপূর্ণ সংবিধান প্রণয়ন।

সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও লেখক স্বদেশ রায়, ভারতের ইনস্টিটিউট অব কালচারাল অ্যান্ড সোশ্যাল স্টাডিজের পরিচালক অরিন্দম মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।

সভায় আলোচকেরা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যে বাংলাদেশকে পাওয়া গিয়েছিল, সেটি প্রকৃত বাংলাদেশ ছিল না। বাংলাদেশকে ভিন্ন চরিত্রে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করার চেষ্টা হয়েছে বারবার।
এদিকে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্থাপিত মুজিব মঞ্চে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন উপাচার্য ইমদাদুল হক। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ কামাল উদ্দীন আহমদ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, আবাসিক হলের প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া জোহর নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর পরিবার ও অন্য নিহত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।