নতুনভাবে করোনা ছড়াচ্ছে বেইজিংয়ে, ফের বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ফের বন্ধ করে দেয়া হয়েছে স্কুল ও খেলার মাঠ। শহরটি ও আশপাশের কিছু অঞ্চলে দ্বিতীয় দফায় মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছে। ফলে ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে শহরের সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। এছাড়া গণহারে করোনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শহরটিতে প্রায় দুই কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, বেইজিং শিক্ষা কমিশন শহরের স্কুলগুলো ফের বন্ধ ঘোষণা করার কথা জানিয়েছে। বেইজিংয়ে প্রায় দু’মাস কেউ করোনাভাইরাস সংক্রমিত না হলেও গত পাঁচ দিনে সেখানে প্রায় একশ জন নতুন করে শনাক্ত হওয়ার খবর জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের কর্মকর্তারা।

বেইজিং শিক্ষা কমিশন তাদের স্থানীয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম উইচ্যাটে এক পোস্ট দিয়ে জানিয়েছে, বুধবার থেকে রাজধানীর স্কুলগুলো পুনরায় অনলাইন ক্লাস শুরু হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও পুনরায় খোলা উচিত নয় বলে জানিয়েছেন বেইজিং শিক্ষা কমিশন।

বেইজিংয়ে স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি বন্ধ করা হয়েছে খেলার মাঠও। শপিংমল ও অফিসগুলোতে আবার বহাল করা হয়েছে দেহের তাপমাত্রা পরীক্ষা করার বিধি। জমায়েতে নিষেধাজ্ঞাও ফের চালু হয়েছে। বেইজিং এর বাইরেও লিয়াওনিং, হেবেই এবং সিচুয়ান প্রদেশে নতুন সংক্রমণ ধরা পড়ার খবর এসেছে।

এদিকে দ্বিতীয় দফায় ফের ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রকট হয়ে উঠতে থাকায় কঠোর সব বিধিনিষেধ নতুন করে বহাল করছে চীন। দেশটির সরকার বেইজিংয়ের একাংশ ফের লকডাউন করেছে। ফেব্রুয়ারির পর থেকে বেইজিংয়ে নতুন করে করোনার সবচেয়ে বড় গুচ্ছ (ক্লাস্টার) সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

নতুন করে এ সংক্রমণ ছড়িয়েছে বেইজিংয়ের একটি বড় পাইকারি বাজার থেকে। ফলে সেখান থেকে ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে গত শনিবারই বাজারটি বন্ধ করা হয়। বাজারটিতে গেছেন এমন সবাইকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে রাখার নির্দেশ দিয়েছে বেইজিং কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস গত সোমবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‌‌‘গত সপ্তাহে বেইজিংয়ে সংক্রমণের নতুন একটি গুচ্ছের কথা জানায় চীন। যে শহরে টানা ৫০ দিন রোগী শনাক্ত হয়নি সেখানে কয়েকদিন ১০০টিরও বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।