দ্রুত ক্যাম্পাস খুলতে চায় ঢাবি, টিকা পেতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনা ভ্যাকসিক প্রয়োগ নিশ্চিত করে দ্রুত সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে চায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। এজন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা পেতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার (অনুরোধ পত্র) পাঠানো হয়েছে।

রবিবার (২৩ মে) ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের অফিসিয়াল লেটার প্যাডে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বরাবর এই অনুরোধ পত্র পাঠানো হয়।

জানা গেছে, করোনার কারণে দীর্ঘ প্রায় ১৫ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অনলাইনে ক্লাস নেয়া হলেও বন্ধ রয়েছে পরীক্ষা। ভার্চুয়াল মাধ্যমে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হলেও অনেক শিক্ষার্থীর আপত্তি থাকায় সেটি বাস্তবায়ন করা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। এই অবস্থায় শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পোষাতে সশরীরে ক্লাস-পরীক্ষা ছাড়া বিকল্প দেখছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

তথ্যমতে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিক্ষকদের টিকাদান কর্মসূচীর মধ্যেও ঢাবির প্রায় এক হাজার শিক্ষক করোনা ভ্যাকসিন পায়নি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। তাদেরও টিকা নিশ্চিত করতে চায় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত টিকার ব্যবস্থা করতেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এই মুহূর্তে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি চলছে সেটি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে ক্যাম্পাস খুলতেই হবে। এছাড়া করোনা পরিস্থিতি কবে ঠিক হবে সেটি অনিশ্চিত। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন নিশ্চিত করেই ক্যাম্পাস খোলা হবে।

ঢাবি উপাচার্য আরও বলেন, আমরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে একটি অনুরোধপত্র পাঠিয়েছি। পরবর্তীতে যে টিকার চালান দেশে আসবে সেখানে যেন আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেয়া হয় চিঠিতে আমরা সেটিই অনুরোধ করেছি।

প্রসঙ্গত, গত ২২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আজ (রবিবার) থেকে ক্যাম্পাস খোলার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে মন্ত্রণালয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ২৯ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ২৯ মের পর ছুটি আরও এক সপ্তাহ বাড়ার আভাস পাওয়া গেছে।