দেশে ফিরলেন বশেমুরবিপ্রবির ২৬ নেপালী শিক্ষার্থী, জানালেন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের প্রায় তিনমাস পর দেশে ফিরেছেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ২৬ নেপালী শিক্ষার্থী। আজ শনিবার (২০ জুন) দুপুরে একটি বিশেষ ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নেপালের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তারা। বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় তিনমাস ধরে বাংলাদেশে আটকে থাকা, এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের কোন ধরনের সহায়তা না করাসহ বেশকিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা দ্যা রাইজিং ক্যাম্পাসকে জানিয়েছেন এসব শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীরা দ্যা রাইজিং ক্যাম্পাসকে জানান, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে পরিবার থেকে এতদূরে অবস্থান করাটা তাদের জন্য কঠিন ছিলো। তাদের পরিবারের সদস্যরাও বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত ছিল। তাই এতোদিন পর দেশে ফিরতে পেরে আনন্দিত তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেপালী শিক্ষার্থী দ্যা রাইজিং ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাইনি। আমাদের অনেকেরই অর্থ সংকটে ছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে ধার হিসেবে টাকা নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সহযোগিতা করেনি। পরবর্তীতে গোপালগঞ্জের স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে দেশে ফিরছি আমরা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস আমাদের এয়ারপোর্ট পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ায় আমাদেরকে বাসের তেলের মূল্যও পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।

তাদের এ অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান দ্যা রাইজিং ক্যাম্পাসকে বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে যথাসম্ভব সহযোগিতা করেছি। এর আগে নেপালীসহ বিদেশি শিক্ষার্থীদের আর্থিক সমস্যার কথা চিন্তা করে ধার হিসেবে প্রায় এক লাখ টাকা প্রদান করেছি। এছাড়া তারা নেপালে যাওয়ার পূর্বে ১০-১২ জন শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে মেডিকেল টেস্টেরও ব্যবস্থা করেছি। সময় থাকলে আমরা সকল শিক্ষার্থীর বিনামূল্যে মেডিকেল টেস্টের ব্যবস্থা করতাম।

তিনি আরও বলেন, তারা দেশে ফেরার পূর্বে আমাদের নিকট কোনো আর্থিক সহযোগিতা চায়নি, আর তাদেরকে ১৬ তারিখ একবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের মাধ্যমে ঢাকা পৌঁছে দেয়া হয়েছে এবং নিয়ে আসা হয়েছে, পরবর্তীতে ১৯ তারিখ পুনরায় এয়ারপোর্টে পোঁছে দেয়া হয়েছে। ১৬ তারিখের জন্য কোনো অর্থ নেয়া হয়নি কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে তাদেরকে ১৯ তারিখের বাসের খরচ বহন করতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত ১৮ মার্চ বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং শিক্ষার্থীদেরকে হল ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু টিকেট সংক্রান্ত জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকায় এসব শিক্ষার্থীরা দেশে ফিরতে পারেননি।