দুই শর্তে আটকা খালেদার বিদেশযাত্রা, হবে পর্যালোচনা

দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা কয়েকটি শর্তে স্থগিত করেছে সরকার। সেই শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম দুটি শর্ত ছিল- মুক্ত থাকার সময়ে খালেদা জিয়াকে ঢাকায় নিজের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে এবং তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না। আর এই দুই শর্তেই আটকে গেছে তার বিদেশযাত্রা।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, খালেদা জিয়া বিদেশ যেতে পারবেন না- সাজা স্থগিতের এই শর্ত শিথিল করা যায় কিনা, তা পর্যালোচনা করতে হবে। আজ (বৃহস্পতিবার) হবে না। দ্রুত এ বিষয়ে মতামত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে। বৃহস্পতিবার (৬ মে) বিকেলে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে গুলশানে নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় বেগম খালেদা জিয়ার সাজা ও দণ্ডাদেশ স্থগিত করা হয়েছিল। এখানে দুটি নির্দিষ্ট শর্ত দেওয়া ছিল। শর্তগুলি মেনে তারা স্থগিতাদেশ গ্রহণ করেছিলেন এবং খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেছিলেন।

সেই শর্তে বলা হয়েছিল, মুক্ত থাকার সময়ে খালেদা জিয়াকে ঢাকায় নিজের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে এবং তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে আইমন্ত্রী বলেন, ৪০১ ধারার কাজ যখন সম্পন্ন হয়েছে, তখন এটা নির্বাহী আদেশে হয়েছিল। এখন আদালতের কিছু করার নেই। এখন দেখতে হবে ৪০১ ধারায় যখন আমরা কার্যসম্পাদন করে দিয়েছি; সেক্ষেত্রে এ শর্তগুলি শিথিল করার কোনো সুযোগ আছে কিনা।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর এখন ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ড নিয়ে তিন বছর আগে কারাগারে যাওয়ার পর গত বছর মহামারির ‍শুরুতে পরিবারের আবেদনে সরকার দণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সাময়িক মুক্তি দেয়। তখন তাকে দেশেই চিকিৎসা নেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়।

এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত খালেদাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে সরকারের কাছে আবেদন করেছে তার পরিবার। তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার বুধবার (৫ মে) রাতে ওই আবেদন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন।

বুধবার রাতেই তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছিলেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে বিষয়টি ‘ইতিবাচক দৃষ্টিতে’ বিবেচনা করা হবে।