দুই দশক ধরে প্যানেল ছাড়াই রাবিতে ভিসি নিয়োগ

১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেটের মাধ্যমে তিনজনের একটি উপাচার্য প্যানেল নির্বাচিত হয়। সেখান থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেন চ্যান্সেলর তথা রাষ্ট্রপতি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ১৯৯৯ সালে সর্বশেষ এই আইনের মাধ্যমে সিনেটর থেকে উপাচার্য নিয়োগ হন। সেবার অধ্যাপক সাইদুর রহমান খান উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আর কোনো উপাচার্য সিনেট প্যানেলে নির্বাচিত হননি। পরবর্তী সময়ে সরকারি দলের পছন্দের শিক্ষকদের এই পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিনেটের মাধ্যমে উপাচার্য নিয়োগ না হওয়াটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ব্যর্থতা। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুরও আবমাননা করা হচ্ছে। কেননা এটি শেখ মুজিবুর রহমান দিয়েছিলেন।

জানা গেছে, ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এলে তৎকালীন সিনেট নির্বাচিত উপাচার্য অধ্যাপক সাইদুর রহমান খানকে সরিয়ে অধ্যাপক ফাইসুল ইসলাম ফারুকীকে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর আর সিনেটের মাধ্যমে উপাচার্য নিয়োগ সম্ভব হয়নি।

অধ্যাপক ফাইসুল ইসলাম ফারুকীর পর অধ্যাপক আলতাফ হোসেন, অধ্যাপক মামনুনুল কেরামত, অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান, অধ্যাপক মুহাম্মদ মিজানউদ্দিনসহ ছয় জন উপাচার্য নিয়োগে সিনেট উপেক্ষিত রয়েছে।

সর্বশেষ দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করে আসা অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের মেয়াদ শেষ হয় গত ৭ মে। শেষ দিনে নিয়োগ দিয়ে পুলিশি পাহারায় উপাচার্য হিসেবে দ্বিতীয় দফায় দায়িত্বের ইতি টেনেছেন অধ্যাপক সোবহান।

অধ্যাপক সোবহানের উপাচার্য হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহাকে। তিনি শুধু রুটিন ওয়ার্ক করতে পারবেন।

এ বিষয়ে প্রাণরসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান বলেন, সবশেষ খালেক স্যারের পর এটি আর হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তারা এটি ভঙ্গ করে। ফলে সেই ধারা চলে আসছে।

‘এখন সিনেটের মাধ্যমে না হওয়াটা আমাদের জন্য ব্যর্থতা। এবারও সেই সুযোগ খুব সীমিত। সরকার যাকে ভালো মনে করবে তাকেই এ পদে নিয়োগ দেবে। এখানে নির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি মানা হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগেরবারও চেষ্টা করেছি। এবার চেষ্টা করছি। এটি পলিটিক্যাল সিদ্ধান্ত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল খালেক বলেন, একজন ভিসির সব ধরনের দিক থাকতে হবে। এগুলো যাদের আছে, তারা ভিসি হলে ভালো হবে।

সিনেট প্যানেলের বিষয়ে তিনি বলেন, সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭৩ সালের আইন নেই। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন আছে। আমি সর্বশেষ সেই আইনেই নির্বাচন দিয়ে এসেছি ১৯৯৯ সালে।

‘প্রতি ৪ বছর পর পর এটি নিয়োগ দেয়ার কথা। তবে সেটি আর হয়নি। গত ২২ বছর থেকে সিনেট প্যানেল থেকে আসেনি। এটি হলে এতটা অবনতি হতো না, যেটি আমরা দেখতে পাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিনেটের মাধ্যমে উপাচার্য নিয়োগ না দেয়াকে বঙ্গবন্ধুরও আবমাননা করা হচ্ছে। এটি শেখ মুজিবুর রহমান দিয়েছিলেন। আমরা সেই সময় অন্দোলন করেছিলাম।

‘তিনি সম্মান দেখিয়েছিলেন। সব বিশ্ববিদ্যালয় তো পায়নি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েও ধরে রাখতে পারল না। এটা শিক্ষকদের ব্যর্থতা।’