দুইশ টাকায় শুরু, এখন ৩০ লাখের মালিক ঢাবি গ্র্যাজুয়েট তানভীর

তরুণ উদ্যোক্তা তানভীর। মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। বর্তমানে ৩০ লাখ টাকার দেশি-বিদেশী ফুলের সমাহার তার বাগানে। মাত্র দুইশ টাকা দিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে যাত্রা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট তানভীরের। পড়াশোনা শেষে চাকরির পেছনে না ঘুরে ফুলের ভালবাসায় নিজের ভিটায় দিয়েছেন বাগান।

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করেছেন তানভীর। শিশু বয়সে বড় আকারের আন্তর্জাতিক মানের ফুলের বাগান করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। ছোট বেলা থেকে বাড়ির চারপাশে মায়ের গড়ে তোলা বাহারি ফুলের বাগান দেখে বড় হন তিনি। ফুলের প্রতি প্রেম তাকে আগ্রহ করে তোলে। তাই নিজের ভিটায় গড়ে তুলেছেন একটি ফুলের বাগান।

তিনি ২০১৪ সাল থেকে ফুল গাছ উৎপাদন ও বিপণনের মতো কাজকে পেশা হিসাবে নেয়। ২৪ শতাংশ জমির উপর ফুল ও ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন তানভীর।

তানভীর বলেন, বিভিন্ন প্রজাতির ৫ শতাধিক ফুলের ও ফলে গাছ রয়েছে তার। তিনি বন্ধুদের মাধ্যমে বীজ ও কাণ্ড থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভারত, পাকিস্তান, আমেরিকা, চীন, ভিয়েতনামসহ প্রায় ২৫টি দেশ থেকে সংগ্রহ করেছেন। তানভীরের বাগানে ১০৫ প্রজাতির শাপলা, ৫৬ প্রজাতির পদ্ম, শতাধিক প্রজাতির জবা, ৫০ প্রজাতির ফল গাছ ৪০ প্রজাতির অন্যান্য গাছ রয়েছে।

সুলতানপুর গ্রামের আব্দুল করিম বলেন, তানভীরের এমন বাগান এখন সাধারণত দেখা যায় না। সে ফুল ও ফলের বাগানের গাছ বিক্রয়ও করে। উচ্চ শিক্ষিত এমন তরুণ উদ্যোক্তা পাওয়াও দুষ্কর।

হরিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল গাফফার বলেন, তানভীর ফুলের বাগান ব্যতিক্রম। এমন বাগান যদি কোন তরুণ করতে চায় তাহলে কৃষি বিভাগ হরিরামপুরের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।