ঢাবি মেডিকেল সেন্টারকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল করার দাবি সাদা দলের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তর ও পিসিআর ল্যাবে পুনরায় করোনা পরীক্ষা চালু করাসহ ৭ দাবিতে উপাচার্যের কাছে লিখিত প্রস্তাবনা দিয়েছে বিএনপি-জামায়াত সমর্থক শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সাদা দলের আহবায়ক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ‘সামনের দিনগুলোতে করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এ অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তহীনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সংকটকালে ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  কর্তৃক গৃহীত কিছু ফলপ্রসু ও কার্যকর উদ্যোগ আমরা লক্ষ্য করেছি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জরুরিভিত্তিতে আরও কিছু সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা সময়ের দাবি। এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের পক্ষ থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা আপনার সদয় বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করছি’।

চিঠিতে সাদা দলের পক্ষ থেকে দেয়া প্রস্তাবনায় রয়েছে—

১) সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্সেস (কারাস) ভবনে স্থাপিত অত্যাধুনিক পিসিআর ল্যাবে পুনরায় করোনা পরীক্ষা চালু করা। ক্যাম্পাসে বা ক্যাম্পাসের বাইরে বসবাসকারী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কারও কোভিড-১৯ এর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত তারা যেন পরীক্ষা করাতে পারেন সেজন্য ল্যাবের সাথেই একটি সেম্পল কালেকশন বুথ স্থাপন করা। স্যাম্পল কালেকশন ও ল্যাবে পরীক্ষার ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনে সেবা গ্রহণকারীর কাছ থেকে ন্যূন্যতম ফি গ্রহণ করা যেতে পারে।

২) আক্রান্ত রোগীর যদি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে তাঁকে/তাঁদেরকে হাসপাতালে ভর্তি এবং নিরবিচ্ছিন্ন চিকিৎসা নিশ্চিতকরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা প্রদান করা। এজন্য একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা। প্রতিনিয়তই কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আইসিইউ সুবিধা আছে এবং করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত এমন এক বা একাধিক হাসপাতালের সাথে দ্রুত এমওইউ সম্পাদন করা। এক্ষেত্রে হেলথ ইন্সুরেন্স কাভারেজ পাওয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় রাখা। উল্লেখ্য যে, ইতোমধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, সামরিক বাহিনী, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের কোভিড চিকিৎসা সুবিধার্থে বিশেষ বুথ ও হাসপাতাল নির্ধারণ করা হয়েছে।

৩) যাদের হালকা উপসর্গ থাকবে তাঁরা যেন প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা পেতে পারেন। এ জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারকে আপদকালীন করোনা সেন্টারে রূপান্তরিত করা। এ জন্য অন্তত ২০টি বেড প্রস্তুতকরণসহ অক্সিজেন ও কিছু ভেন্টিলেটর এর ব্যবস্থা রাখা। মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ও সহায়ক স্বাস্থ্যকর্মীরা যেন নির্বিঘ্নে ও উৎসাহ নিয়ে সেবা প্রদানে আগ্রহী হন এজন্য তাঁদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রীসহ প্রয়োজনে প্রণোদনা প্রদান করা।

৪) ক্যাম্পাস বা ঢাকা শহরের অন্যত্র বসবাসকারী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যগণ যেন প্রয়োজন মূহুর্তে দ্রুত এম্বুল্যান্স সুবিধা পান, সে জন্য মেডিকেল সেন্টারের এম্বুল্যান্সগুলোকে সবসময় প্রস্তুত রাখা। প্রয়োজনে এ কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবাসগুলোও ব্যবহার করা।

৫) বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কেউ মৃত্যুবরণ করেন (আমাদের প্রত্যাশিত নয়, তারপরও যদি দূর্ভাগ্যজনকভাবে), তবে তাঁর সৎকারের ব্যবস্থাকরণসহ পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা।

৬) বিনামূল্যে টেলিমেডিসিন সেবা কার্যক্রম, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা কার্যক্রম, স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ বিষয়ক টেলিথেরাপি সেবাসহ চলমান সেবাসমূহ অব্যাহত রাখা।

৭) শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলে প্রায় ৫০ হাজার সদস্যের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পরিবার। এ বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়টি এখন আমাদের বিশেষভাবে বিবেচনা করা দরকার। বিদ্যমান মেডিকেল সেন্টারটি আমাদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণে যে অপারগ, তা বলা বাহুল্য। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তরিত করা সকলের দাবি। এ দাবিটি আমলে নিয়ে এখনই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা।