ঢাবির শতবর্ষে পিএইচডি ১৮১২, এমফিল ১৬৭০ জন

প্রতিষ্ঠার শতবর্ষে ১ হাজার ৮১২ জন গবেষককে পিএইচডি ও ১ হাজার ৬৭০ জনকে এমফিল ডিগ্রি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। গেল বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এ ডিগ্রি দিয়েছে ঢাবি।

এছাড়াও ডিএসসি ডিগ্রি নিয়েছেন ২৭ জন, ডিএড ডিগ্রি ৮ জন ও ১২ জনকে ডিবিএ ডিগ্রি দিয়েছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে অভিহিত এ প্রতিষ্ঠানটি। ঢাবির ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম সরকারের গ্রন্থ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, পাকিস্তান আলম তথা দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ঢাবিতে এমফিল ডিগ্রির কোন ব্যবস্থা ছিল না। ছিল না কোন ধরনের গবেষণা ব্যবস্থা। তবে স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৭৪ সালে এমফিল ডিগ্রি চালু করা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ইতিবৃত্ত প্রকাশন-এর আয়োজনে ঢাবির আরসি মজুমদার মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষের গবেষণা—পিএইচডি ও এমফিল’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ গ্রন্থটির মুখবন্ধ লিখেছেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা অনেক কম হয়েছে। তবে মানের দিক থেকে সেইগুলো অনেক ভালো। স্বাধীনতার পর অনেক বেশি কাজ হয়েছে। কিন্তু এর সবকটি যে যথেষ্ট ভালো হয়েছে, তা বলা যাবে না। পিএইচডি থাকলে চাকরিতে সহজে উন্নতি করার সুযোগ এবং শিক্ষকদের পদোন্নতির জন্য ‘রিস্ট্রাকচারিং’ পদ্ধতি আসার পর থেকে গবেষণা অনেক বেড়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, যারা পিএইচডি বা এমফিল কোর্সে ভর্তি হয়ে থাকে, তারা একটি নিবন্ধ তৈরি করার পর তা জমা দিলে সাধারণত ডিগ্রি পেয়ে যায়। পিএইচডি ডিগ্রি পাওয়ার বা অধ্যাপক হয়ে যাওয়ার পরে লেখালেখি বা গবেষণা করে থাকেন, এমন শিক্ষকদের সংখ্যা খুবই কম। তবে আগাগোড়া এক রকম না হলেও জ্ঞান ও চিন্তা চর্চার একটা সমৃদ্ধ ঐতিহ্য অবশ্যই আমাদের আছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাবির উপ–উপাচার্য (শিক্ষা) এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, বইটিতে ঢাবির একটি গবেষণা-ম্যাপিং রচিত হয়েছে। বিভাগ-অনুষদগুলোকে ম্যাপিং করে গত ১০০ বছরে ঢাবির কোন বিভাগ-অনুষদের কী অবদান, তা বইটিতে তুলে আনা হয়েছে।

গ্রন্থটির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে লেখক আবুল কালাম সরকার জানান, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান থাকাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে পিএইচডির খোঁজ নেন তিনি। তখন তিনি লক্ষ করেন, কোথাও ঢাবির শুরু থেকে এ পর্যন্ত পিএইচডি-এমফিলের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই। তবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে ঢাবির পিএইচডি-এমফিলের বিক্ষিপ্ত কিছু তালিকা ছিল। সেই তালিকা যাচাই-বাছাই করে এ গ্রন্থটি রচনা করেছেন তিনি।