ঢাবির ঘ ইউনিট রাখার পক্ষে নীল দলের অনুষদ শাখা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ঘ ইউনিট বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ শাখা। এ অবস্থানের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে তারা একটি কমিটিও করেছে। এর আগে বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনের জন্য যে ‘সর্বদলীয়’ প্ল্যাটফর্ম আলোচনায় এসেছিল, তার মূল উদ্যোক্তারাও নীল দলের এ কমিটিতে রয়েছেন। সর্বদলীয় প্ল্যাটফর্মটি তাঁরা আপাতত স্থগিত রাখছেন।

‘পরীক্ষার বোঝা ও ভোগান্তি কমানোর’ কথা বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘ ইউনিট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উচ্চমাধ্যমিকের বিভাগ পরিবর্তনের জন্য কয়েক দশক ধরে শিক্ষার্থীরা এই ইউনিটের অধীন ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে চলা বিতর্কের মধ্যেই ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এই ইউনিট বাতিলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিভাগ পরিবর্তনের একটি নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ডিনস সাব-কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এ সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলার মধ্যে গত রোববার সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষকদের একটি অনানুষ্ঠানিক সভা হয়। সভায় শিক্ষকেরা ঘ ইউনিট বহাল রাখার পক্ষে আন্দোলন করতে সম্মত হন। সেই লক্ষ্যে সভা থেকে ‘ঘ ইউনিট সর্বদলীয় আন্দোলন কমিটি’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব আসে। এতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে আহ্বায়ক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খানকে সদস্যসচিব করা হয়।

আন্দোলনের এ উদ্যোগের এক দিন পরই গতকাল সোমবার সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ শাখা নীল দল একটি সভা করে। এ সভায় আওয়ামীপন্থী শিক্ষকেরা ঘ ইউনিট বহাল রাখার পক্ষে একমত হন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে নীল দলের পক্ষ থেকে একটি কমিটিও করা হয়েছে। কমিটিতে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক জিয়া রহমানকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। রোববারের ‘সর্বদলীয়’ কমিটির উদ্যোক্তা আ ক ম জামাল উদ্দিন ও মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খানও নীল দলের গঠন করা এ কমিটিতে রয়েছেন। অবশ্য বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের কাউকে এতে রাখা হয়নি।

জানতে চাইলে মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাদা-নীলের থেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, এ কমিটি শিক্ষকদের পক্ষ থেকে। নতুন কমিটিটি নীল দলের পক্ষ থেকেই করা। কিন্তু নীল দল চাইছে যে এখানে সবারই অংশগ্রহণ থাকুক। আন্দোলনটা সর্বজনীনই হবে। নীল দলের পক্ষ থেকে অবস্থানটা পরিষ্কার করা হলো। নীল দল সরকার-সমর্থিত সংগঠন হলেও এ ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থানটা অনুষদের স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্রশাসনে থাকা নীল দলের শিক্ষকদের অবস্থানের সঙ্গে অনুষদ শাখা নীল দলের অবস্থানের ভিন্নতা আছে। এটা স্পষ্ট করা জরুরি ছিল। নীল দলের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ জায়গা সবাই স্পষ্ট করেছেন যে ঘ ইউনিট থাকবে এবং প্রয়োজনে ঘ ইউনিটের পরীক্ষা আমরা স্বতন্ত্রভাবে নেব।’

‘সর্বদলীয়’ প্ল্যাটফর্মটি আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে বলে জানান অধ্যাপক তানজীম। তিনি বলেন, ‘আন্দোলন নয়, নীল দলের করা কমিটির মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার দরজাটা খোলা রাখা হবে। আগের উদ্যোগটাও আছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনুষদের শিক্ষকদের অভিমতকে গুরুত্ব না দিলে আমাদের ভিন্ন চিন্তা করতে হবে। অনুষদ যেহেতু ঘ ইউনিট বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়াটা আমরা দেখতে চাই। কোনো সাড়া না পেলে আমরা অনুষদের সব শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ভিন্ন কিছু চিন্তা করব।’

ঘ ইউনিট বহাল রাখতে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ শাখা নীল দলের করা ১৪ সদস্যের কমিটিতে আছেন সংগঠনের অনুষদ শাখার আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইমরান হোসেন ভূঁইয়া ও তাওহিদা জাহান। আছেন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া। কমিটিতে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক আবুল মনসুর আহাম্মদ। রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিনাত হুদা ও মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনও কমিটিতে আছেন।

কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জিয়া রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ঘ ইউনিট বহাল রাখার পক্ষে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষকদের একটি ‘সেন্টিমেন্ট’ রয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের জন্য কমিটিটি করা হয়েছে।

ঘ ইউনিট বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থের ওপর কোনো স্বার্থ নেই। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এ দুটি বিষয়ই আমাদের প্রধান উপজীব্য। ব্যক্তি এখানে গৌণ বিষয়।’