ঢাবির ঘ ইউনিট বহাল রাখতে উপাচার্যকে স্মারকলিপি ছাত্র অধিকার পরিষদের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ঘ ইউনিট বহাল রাখার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানকে স্মারকলিপি দিয়েছে ছাত্র অধিকার পরিষদ।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ঘ ইউনিট বাদ দিয়ে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে চারটি ইউনিটের (ক, খ, গ ও চ) অধীনে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

আজ সোমবার বেলা একটার দিকে উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসাইন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটির অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন জিয়া রহমান ও অনুষদের ১৬ বিভাগের চেয়ারপারসনকে এই স্মারকলিপির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আসছে। বাংলাদেশের ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থার কারণে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে শহরের সঙ্গে তালমিলিয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। এ জন্য অনেক শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিকের পর ঘ ইউনিটের (বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট) মাধ্যমে নিজ নিজ বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ নেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হুট করে ঘ ইউনিট বাতিলের নির্দেশনা দিলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত ও পরিষ্কার কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ছাত্র অধিকার পরিষদ মনে করে, ঘ ইউনিট বন্ধ করে নিজ নিজ অনুষদে ভর্তি পরীক্ষা নিলে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষেই সম্পূর্ণ নতুন একটি বিষয়ের মুখোমুখি হবে‍ন। এটি তাঁদের একাডেমিক সফলতার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে‍। লাখ লাখ ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্পষ্ট সিদ্ধান্তের কারণে ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছেন। অনেকে ঘ ইউনিটের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন। শিক্ষার্থীরা কারও হাতের ক্রীড়নক নন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ বিষয়ে পরিষ্কার বক্তব্য ও ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বহাল রেখে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা উচিত।

স্মারকলিপিতে নিবেদক হিসেবে ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আখতার হোসেনের নাম উল্লেখ করা হলেও স্মারকলিপি দেওয়ার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। স্মারকলিপি দেওয়ার পর সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, উপাচার্য ঘ ইউনিটের বিষয়ে দ্রুত স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এ ছাড়া বিভাগ পরিবর্তনের বিষয়ে সুযোগ রাখার নিশ্চয়তার কথাও বলেছেন। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত না এলে পরিষদ সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন করবে।

উচ্চমাধ্যমিকের বিভাগ পরিবর্তন করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের অনেকের প্রথম পছন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিট। ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এই ইউনিট বাতিল করে বিভাগ পরিবর্তনের বিকল্প কৌশলের নীতিমালা প্রণয়নে ডিনস সাব-কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষকদের একটি অংশ ঘ ইউনিট বহাল রাখতে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ঘ ইউনিট বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই ধোঁয়াশা ছিল। ২০২০ সালের নভেম্বরের আগে ঘ ইউনিট রদ বা বহাল রাখার বিষয়ে কোথাও কোনো আলোচনা ছিল না। সেই বছরের ৮ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির একটি বিশেষ সভা হয়। আলোচ্যসূচিতে না থাকলেও সেই সভার শেষ পর্যায়ে নিজে থেকেই ঘ ইউনিট ও চারুকলা অনুষদভুক্ত চ ইউনিট বন্ধ করার প্রস্তাব তোলেন উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান। এর পেছনে পরীক্ষার বোঝা ও ভোগান্তি কমানোর যুক্তি দেন তিনি। পরে অবশ্য শুধু ঘ ইউনিট বাতিল করার সিদ্ধান্ত হয়।