ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

বাসায় আশি লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার হওয়া বরখাস্ত সিলেটের ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। চার্জশিটে বলা হয়েছে, তদন্তে প্রমাণিত ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমেই তিনি এ অর্থ উপার্জন করেছেন।
এদিকে, অবৈধ সম্পদের অভিযোগে হানিফ পরিবহনের মালিক কফিল উদ্দিনকে সোমবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সংস্থাটি। চট্টগ্রাম কারাগারের দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে উঠে আসে ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল বণিকের নাম। এরপর অনুসন্ধানে নামে দুদক। চট্টগ্রাম থেকে বদলি হয়ে সিলেটে একই পদে ছিলেন তিনি।

ঘুষের বিপুল পরিমাণ টাকা বাসায় আছে-এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত বছরের ২৮শে জুন তার বাসায় অভিযান চালানো হয়। তল্লাশি করে পাওয়া যায় আশি লাখ টাকা। তখন তিনি এ টাকা উপার্জিত অর্থ বলে দাবি করেন। ঘুষের টাকাসহ আটকের পরদিনই তার নামে মামলা করে দুদক।

একবছরের বেশি সময় তদন্ত করে সোমবার আদালতে চার্জশিট দেন দুদকের উপ-পরিচালক সালাউদ্দিন আহমেদ। এতে বলা হয়েছে, বাসায় রাখা নগদ এ অর্থ সারাজীবনের উপার্জন বলা হলেও ২০০২ সালে চাকরিতে যোগদানের সময় সম্পদ বিবরণীতে তার কোনো সঞ্চিত অর্থের কথা উল্লেখ ছিল না। আয়কর নথিতেও বাসায় থাকা নগদ অর্থের তথ্য নেই। তার বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও এ অর্থ লেনদেন হয়নি।দুদকের জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি এ অর্থের বৈধ উৎসের তথ্য দিতে পারেননি। কারাগারে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমেই তিনি এ অর্থ উপার্জন করেছেন বলে চার্জশিটে বলা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক সচিব দিলোয়ার বখত বলেন , ‘ঘুষ দুর্নিতীর মাধ্যমে এই এই ৮০ লাখ টাকা তিনি উপার্জন করেছেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তারা অনুসন্ধানে পেয়েছেন। এর পর তিন আদালতের মাধ্যমে বিচারের সম্মুথীন হবেন।’

চার্জশিটে আরও বলা হয়েছে, বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যেই এ টাকা ব্যাংকে না রেখে তিনি বাসায় রেখেছেন। পার্থ গোপাল বনিক মামলার পর থেকেই কারাগারে।

এদিকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পরিবহণ ব্যবসায়ী হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক কফিল উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। সংস্থাটির উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কফিল উদ্দিন একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি হানিফ মিয়ার ভাই। একইদিন পলাতক হানিফ মিয়া, তার স্ত্রী ইভা হানিফকে তলব করা হলেও তারা হাজির হননি।