টীকা পেতে এখনও তথ্য সংগ্রহই শেষ হয়নি সাত কলেজের

সেশনজট নিরসন ও পাঠ কার্যক্রমে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টরা। সেই লক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত আবাসিক শিক্ষার্থীদের ইতোমধ্যেই প্রথম ধাপে করোনাভাইরাসের টীকা প্রদান করা হচ্ছে।

তবে সেই অগ্রাধিকার তালিকায় নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের নাম। যার ফলে প্রথম ধাপের এই টীকা কার্যক্রমের বাইরেই রয়ে গেছে সাত কলেজের প্রায় ৩০ হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী।

যেখানে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় পর্যায়ের টিকা নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সেখানে এখনও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমই শেষ হয়নি। তবে তালিকা সংগ্রহের কাজ চললেও শিক্ষার্থীদের দ্রুত টীকা পাওয়া নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন ধরনের নিশ্চয়তার কথা জানাতে পারেনি সাত কলেজ প্রশাসন৷

অধিভুক্ত কলেজগুলোর টীকা রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নির্দেশনার নোটিশ থেকে দেখা যায়, ঢাকা কলেজের আবাসিক ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা ১৭ জুলাই, ইডেন মহিলা কলেজের ১৮ জুলাই, তিতুমীর কলেজের ২৩ জুলাই, সোহরাওয়ার্দী কলেজের ৩১ জুলাই, সরকারি বাঙলা কলেজের ১৯ জুলাই ও ঢাকা কলেজের অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা ২৯ জুলাই পর্যন্ত আবেদনের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মারুফ তালুকদার বলেন, অন্য সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টীকা দেয়া শুরু হয়ে গেছে৷ আমাদের মাত্র তালিকা নেয়া শুরু হয়েছে৷ টীকা কবে পাব তার কোন সঠিক নির্দেশনা নেই৷ টীকা দিতে দেরি হলে ক্যাম্পাস খুলতেও তো দেরি হবে! আমরা এমনিতেই সেশনজটে আছি ৷ দ্রুত টীকা দিয়ে ক্যাম্পাস না খুললে সেশনজট আরও দীর্ঘ হবে৷ তাছাড়া এখন সরকারিভাবেই ১৮ বছরের উর্ধ্বে সকলকে টিকা প্রদান করা হবে। তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের টিকা নিশ্চিত করতে কলেজ প্রশাসনের ভূমিকা কতটুকু থাকলো?

সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী হাসিবুল হাসান বলেন, সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা টীকা পেলো এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যও সংগ্রহ করা হলো। কিন্তু সাত কলেজ টানাপোড়েনের মাঝেই রয়ে গেলো। আমরা এমনটা চাই না। প্রতিটি বিষয়েই স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত হোক এটি আমাদের প্রত্যাশা।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ও সরকারী সাত কলেজের সমন্বয়ক অধ্যাপক আইকে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বলেন, টিকা নিশ্চিতে আমাদের চেষ্টার কোন কমতি ছিলনা। তারপরও আমরা দেখেছি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় সাত কলেজের নাম নেই। সাথে সাথে বিষয়টি আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়কে জানিয়েছি। এখনও আমাদের তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো অবস্থায় শিক্ষার্থীদের তথ্য চাওয়া হলে আমরা সেগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে হস্তান্তর করতে পারব।