জেমির সঙ্গে নতুন চুক্তি বাফুফের

দু’বছরে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা আয়কর ফাঁকি দেয়া ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে’র হাতেই ফের তুলে দেয়া হল জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্ব। এবার দু’বছরের জন্য তার সঙ্গে চুক্তি করল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

মঙ্গলবার ভার্চুয়ালি নতুন চুক্তিতে সই করেন লন্ডনে থাকা জেমি। ১৪ আগস্ট ঢাকায় এসে দায়িত্ব বুঝে নেবেন তিনি। নতুন চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২২ সালের আগস্টে। বাফুফে সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত মে’তে জেমির সঙ্গে এক বছরের চুক্তি শেষ হয় বাফুফের। করোনাভাইরাসের কারণে নতুন চুক্তি হচ্ছিল না। জাতীয় দলের খেলা নেই। এখন চুক্তি করলে বসিয়ে বেতন দিতে হবে। সেজন্য কৌশলী অবস্থানে ছিল বাফুফে। দু’পক্ষই দুই বছরের চুক্তিতে রাজি ছিল। তাই দেরি না করে ভার্চুয়ালি জেমি ডে’র সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি সেরে ফেলল বাফুফে।

২০১৮ সালে জামাল ভূঁইয়াদের কোচ হিসেবে আসা জেমি ডে’র কাজে সন্তুষ্ট বাফুফে। তার সঙ্গে আগেও একবার চুক্তি নবায়ন করেছিল। এবার জাতীয় দলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেয়ায় জেমিকে দুই বছরের জন্য প্রস্তাব দেয় বাফুফে। সেই প্রস্তাবে রাজি হন ইংল্যান্ডে থাকা জেমি। চুক্তি শেষে এক ভিডিও বার্তায় জেমি বলেন, ‘সবেমাত্র বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে নতুন চুক্তি করেছি আমি। আরও দু’বছর বাফুফের সঙ্গে কাজ করতে মুখিয়ে আছি। নতুন চুক্তি করতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত।’

করোনার কারণে গত মার্চে স্থগিত হয় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের চারটি ম্যাচ। নতুন দিনক্ষণ অনুযায়ী অক্টোবর ও নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচগুলো। ৮ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফের যাত্রা শুরু হবে বাংলাদেশের। গুরুত্বপূর্ণ চারটি ম্যাচ নিয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা করছেন জেমি। তার কথা, ‘জাতীয় দলের উন্নতিতে চোখ আমার। সামনে আমাদের চারটি বড় ম্যাচ রয়েছে। তবে আপাতত ছেলেদের সঙ্গে অনুশীলন ক্যাম্পে ফিরতে চাই এবং ম্যাচের জন্য তাদের তৈরি করতে চাই।’

আয়কর না দিয়েই নিজ দেশে চলে গিয়েছিলেন জেমি। যদিও চুক্তি অনুযায়ী আয়করের টাকা দেয়ার কথা বাফুফের। কিন্তু এ ধরনের চুক্তি বাংলাদেশের আয়কর আইনের পরিপন্থী। আয়কর দিতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই। অর্থাৎ, কোচ জেমি ডে’কে। গত দু’মেয়াদে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আয়কর না দিলেও ফের দু’বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেন তিনি। আয়কর ফাঁকি দেয়ার ঘটনা ১২ বছর ধরেই ঘটছে বাফুফেতে। বিদেশি ফুটবল কোচরা প্রায় চার কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়েছেন। দেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। কর ফাঁকি দিচ্ছেন বাংলাদেশে খেলতে আসা বিদেশি খেলোয়াড় ও কোচরা। শুধু তাই নয়, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন এসব বিদেশি।