জেএসসি পাসে সাধারণ আনসার পদে চাকরির সুযোগ

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অন্যতম অনুষঙ্গ সাধারণ আনসার। দেশে বর্তমানে ৫৩ হাজার ২১৯ জন প্রশিক্ষিত সাধারণ আনসার সদস্য ৪ হাজার ৭৬১টি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। এসব আনসার সদস্য বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, পাওয়ার স্টেশন, কেপিআই, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মহানগরীতে ট্রাফিক কন্ট্রোল, রেল, নৌ ও অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি স্থাপনার নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন।

সাধারণ আনসার হিসেবে শুধু পুরুষ প্রার্থীদের বাছাইয়ের জন্য গত শুক্রবার প্রথম আলোর চাকরি-বাকরি পাতায় একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সাধারণ মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আপনিও হতে পারেন আনসার বাহিনীর একজন গর্বিত সদস্য। আগ্রহী প্রার্থীদের প্রাথমিক বাছাইয়ের জন্য নির্ধারিত তারিখ ও স্থানে উপস্থিত থাকতে হবে। সারা দেশে পাঁচটি রেঞ্জে প্রার্থী বাছাই করা হবে। রেঞ্জগুলো হলো—ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম।

আবেদনের যোগ্যতা
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সাধারণ আনসার হিসেবে প্রশিক্ষণ নিতে হলে প্রার্থীদের ন্যূনতম জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। বয়স হতে হবে ১৮-৩০ বছরের মধ্যে। শারীরিক যোগ্যতার ক্ষেত্রে উচ্চতা সর্বনিম্ন ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। বুকের মাপ ৩০ থেকে ৩২ ইঞ্চি। দৃষ্টিশক্তি ৬–৬। কোনো দূরারোগ্য ব্যাধি থাকলে প্রার্থীকে প্রাথমিক বাছাইয়ে নির্বাচন করা হবে না। অধিক উচ্চতা, শহীদ পরিবার, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন ও ভিডিপি বা টিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

আবেদন পদ্ধতি
প্রার্থীদের অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) অথবা যেকোনো অনলাইন-সুবিধাসম্পন্ন কম্পিউটার থেকে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ওয়েবসাইটে (www.ansarvdp.gov.bd) ‘সাধারণ আনসার (পুরুষ) মৌলিক প্রশিক্ষণের আবেদন’ লিংকে ক্লিক করে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। ইতিমধ্যে অনলাইনে নিবন্ধন শুরু হয়েছে। আবেদন চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। অনলাইন নিবন্ধন ফি বাবদ ২০০ টাকা আবেদন পোর্টালে প্রদর্শিত বিকাশ বা রকেট বা মোবিক্যাশ ইত্যাদির মাধ্যমে জমা দিতে হবে। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে অনলাইন থেকে প্রবেশপত্রটি প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করতে হবে এবং বাছাইয়ের সময় অবশ্যই তা প্রদর্শন করতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
যাচাই-বাছাইয়ে অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি, চারিত্রিক সনদের মূল কপি, নাগরিকত্ব সনদ, অনলাইন নিবন্ধনের সময় দেওয়া প্রবেশপত্রের মূল কপি, সদ্য তোলা চার কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং প্রার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কলম, পেনসিল, স্কেল, ক্লিপবোর্ড সঙ্গে আনতে হবে।

সুযোগ-সুবিধা
প্রশিক্ষণ শেষে অঙ্গীভূত হলে সমতল এলাকায় মাসিক ১৬ হাজার ২০০ টাকা এবং পার্বত্য এলাকায় ১৭ হাজার ৪০০ টাকা ভাতা পাবেন। প্রতিবছর দুটি উৎসব ভাতা ৯ হাজার ৭৫০ টাকা করে দেওয়া হবে। দুটি ইউনিট রেশন ভর্তুকি মূল্যে প্রদান করা হবে। কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্থায়ী পঙ্গুত্ববরণ করলে দুই লাখ টাকা অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে।

বিস্তারিত যোগাযোগ
এই নিয়োগসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা আনসার-ভিডিপি কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। এ ছাড়া ভিজিট করতে পারেন www.ansarvdp.gov.bd এই ওয়েবসাইটে।