জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিযুদ্ধ বৈষম্য: এক শিফটে ৭৪৭, অন্য শিফটে ২২২

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এবারও ভর্তি পরীক্ষায় শিফট বৈষম্যের নানা অভিযোগ উঠেছে। জাবির বিভিন্ন ইউনিটে শিফট বৈষম্য নিয়ে আলোচনা চললেও বিশ্ববিদ্যালয়টির জীববিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ডি’ ইউনিটের ফল প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে এই অভিযোগ আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা হলেও একসঙ্গে ফল প্রকাশ হওয়ায় প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। সর্বশেষ ৫ আগস্ট (শুক্রবার) ‘ডি’ ইউনিটের প্রকাশিত ফলে এক শিফট থেকে ৩৭০ জন এবং অন্য শিফট থেকে মাত্র ১০৩ জন চান্স পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, ‘শিফট পদ্ধতিতে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিলেও ফল একসঙ্গে প্রকাশিত হয়। এতে করে যেকোনো একটি শিফট থেকে অধিকাংশ শিক্ষার্থী মেধা তালিকায় স্থান করে নিচ্ছেন অথবা যেকোনো একটি শিফট থেকে মেধাতালিকায় শীর্ষদের অবস্থান বেশি। ভিন্ন প্রশ্নের কারণে প্রশ্নপত্রের মান একই থাকছে না।’

শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ডি’ ইউনিটের ফল প্রকাশ হয়। প্রকাশিত ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সর্বমোট আটটি শিফটে অনুষ্ঠিত ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৩২০টি আসনের মধ্যে তৃতীয় শিফট থেকে মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন সর্বোচ্চ ৭৪৭ জন ছাত্রছাত্রী, যা মোট আসনের ৪২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অন্যদিকে সপ্তম শিফটে সর্বনিম্ন মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন মাত্র ২২২ জন, যা মোট আসনের মাত্র ১৪ শতাংশ।

জাবির ‘ডি’ ইউনিটের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট আটটি শিফটের পরীক্ষায় ছাত্রদের প্রকাশিত মেধাতালিকায় ১ম শিফটে ২২২ জন, ২য় শিফটে ১৪২ জন, ৩য় শিফটে ৩৭৭ জন, ৪র্থ শিফটে ২৮৮ জন, ৫ম শিফটে ২০২ জন, ৬ষ্ঠ শিফটে ১৫৮ জন, ৭ম শিফটে ১১৯ জন এবং ৮ম শিফটে ১৪৩ জন স্থান পেয়েছেন।

অন্যদিকে, আট শিফটের পরীক্ষায় ছাত্রীদের মধ্য থেকে ১ম শিফটে ১৮৯ জন, ২য় শিফটে ১৬৪ জন, ৩য় শিফটে ৩৭০ জন, ৪র্থ শিফটে ২৭৩ জন, ৫ম শিফটে ১৭৩ জন, ৬ষ্ঠ শিফটে ১৭২ জন, ৭ম শিফটে ১০৩ জন এবং ৮ম শিফটে ১৭০ জন প্রকাশিত মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছেন।

ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, জাবির ‘ডি’ ইউনিটে আট শিফটের পরীক্ষায় ১ম শিফটে ৪১১ জন, ২য় শিফটে ৩০৬ জন, ৩য় শিফটে ৭৪৭ জন, ৪র্থ শিফটে ৫৪১ জন, ৫ম শিফটে ৩৭৫ জন, ৬ষ্ঠ শিফটে ৩৩০ জন, ৭ম শিফটে ২২২ জন এবং ৮ম শিফটে ৩১৩ জন প্রকাশিত মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছেন।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম বলেন, ‘আমরা এটি কমানোর চেষ্টা করছি। আগামীতে শিফট কমিয়ে আনার ব্যাপারে উদ্যোগ নেব।’