জাহাঙ্গীরনগরে ভর্তি গত বছরের চেয়ে আবেদন কম, প্রতি আসনে পরীক্ষার্থী ১৬৩

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তির জন্য ১ হাজার ৮৮৯টি আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৩ লাখ ৭ হাজার ৯৭৮টি। এই হিসাবে প্রতি আসনের বিপরীতে লড়বেন ১৬৩ জন ভর্তি-ইচ্ছুক।
আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব আবু হাসান এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য প্রাথমিক আবেদন শেষে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করেছেন মোট ৩ লাখ ৭ হাজার ৯৭৮ জন শিক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় ৫১ হাজার ৯৮৪ জন কম। তবে ভর্তি-ইচ্ছুদের সুবিধার্থে আবেদন ফি পরিশোধের সময় আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত বাড়ানো হলেও এখন নতুন কোনো আবেদন করার সুযোগ নেই।
আবু হাসান আরও বলেন, এ বছর ভর্তি-ইচ্ছুকদের মোট ৯টি ইউনিটের জন্য পৃথকভাবে ফরম পূরণ করতে হয়েছে। এর মধ্যে এ ইউনিটে (গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদ) ৬৮ হাজার ২০২ জন, বি ইউনিটে (সমাজবিজ্ঞান অনুষদ) ৩৭ হাজার ৮৪৭ জন, সি ইউনিটে (কলা ও মানবিক অনুষদ) ৪১ হাজার ৬৭৭ জন, সি১ ইউনিটে (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব এবং চারুকলা বিভাগ) ১০ হাজার ২৬৮ জন, ডি ইউনিটে (জীববিজ্ঞান অনুষদ) ৬৯ হাজার ১২৯ জন, ই ইউনিটে (বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ) ১৮ হাজার ৩৩ জন, এফ ইউনিটে (আইন অনুষদ) ২৪ হাজার ৭৩ জন, জি ইউনিটে (ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) ৮ হাজার ৮৬১ জন, এইচ ইউনিটে (ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি) ২৩ হাজার ২৪০ জন এবং আই ইউনিটে (বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট) ৬ হাজার ৭১০ জন ভর্তি-ইচ্ছুক আবেদন করেছেন।
ভর্তি পরীক্ষা কবে নাগাদ হতে পারে, জানতে চাইলে আবু হাসান বলেন, ‘আমরা ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের বিজ্ঞপ্তিতেই জানিয়েছি, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হবে। এখনো সেই সিদ্ধান্ত বহাল আছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে আমাদের জানানো হলেই পরে আমরা জানিয়ে দিতে পারব।’
আবেদনের সংখ্যা কমের কারণ কী হতে পারে, জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব বলেন, এ বিষয়ে তাঁরাই (ভর্তি-ইচ্ছুক) ভালো বলতে পারবে। আবেদনকারীর সংখ্যা তিন লাখের বেশি হওয়ায় তিনি মনে করেন এ সংখ্যা কম নয়।
তবে ভর্তি–ইচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হঠাৎ করে আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা ও বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতায় হিসেবে বেশি জিপিএ চাওয়ায় দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেবেন, এমন অনেক ভর্তি-ইচ্ছুক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আবেদন করতে পারেননি।
ভর্তি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন হলের কার্যক্রমের অগ্রগতি বিবেচনায় সিট সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। এখন পর্যন্ত প্রবেশপত্র ডাউনলোড বাটন স্বয়ংক্রিয় না হওয়ায় এখনই প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন না আবেদনকারীরা।
প্রসঙ্গত, গত ২০ জুন থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে ৩১ জুন পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা ১৪ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ায়। গতকাল শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত ভর্তি-ইচ্ছুকেরা আবেদন করতে পেরেছেন। ভর্তি পরীক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (https://juniv-admission.org/)।